স্থানীয়দের টাকায় নির্মিত সেতুতে চাঁদা আদায় করছেন প্রভাবশালীরা

নেত্রকোণার কলমাকান্দার রাধানগর-শিবপুর সড়কের কাউবাড়ি নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সেতু পারাপারে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৭ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর শিবপুর গ্রামের আমির হোসেনসহ গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তবে চাঁদা উত্তোলনকারীদের দাবি, তারা জনসাধারণের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন না। অবৈধ পথে ভারত থেকে চিনি আমদানিকারকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে রাধানগর, জিগাতলা, মানিকপুর গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকার ১৫-২০ জন উদ্যোগ নিয়ে কাউবাড়ি নদীর ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করেন। সেতুটি ৪০ মিটার লম্বা ও ২ মিটার চওড়া। সেতুটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। নির্মাণের পর একটি অসাধু চক্র ওই সেতু ওপর দিয়ে যাতায়াতকারীদেও কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু করেন। এতে বাধা দিলে শিবপুর গ্রামের হযরত আলীর নির্দেশে আতাব উদ্দিন, ইউনুছ আলী, মো. শরীফুল, রইছ উদ্দিন, মো. আরিফুল, রতন মিয়া, আবু রায়হান, নাছির উদ্দিন, ইয়ামিনসহ আরও কয়েকজন মিলে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে একজন আহত হন। এ ঘটনায় ২ এপ্রিল নেত্রকোণা আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে সেতুটি উন্মুক্ত এবং কেউ যাতে চাঁদা তুলতে না পারে এ ব্যাপারে নিষেধ করে যায়। কিন্তু নিষেধ অমান্য করে যাতায়াতকারীদের কাছ থেকে ফের টাকা নেওয়া শুরু করে চক্রটি। টাকা আদায় করতে না পারলে সেতুটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা এবং কেউ বাধা দিলে হত্যার হুমকি দিয়েছে চাঁদা আদায়কারীরা।

সেতু পারাপারে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত মো. শরীফুল, আরিফুল, রইছ উদ্দিন ও আতাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেন না তারা। অবৈধ পথে ভারত থেকে চিনি আমদানিকারকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সেতুটির মেরামতের জন্য শুধু মালপত্র বহনকারীদের কাছ থেকে নামমাত্র কিছু টাকা নেওয়া হয়।

লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এলাকার কয়েকজন নিজস্ব টাকা খরচ করে সেতুটি নির্মাণ করে। এই সেতু দিয়ে যাতায়াতে দুই পাড়ের জনগণকে চাঁদা দিতে হয়। সেতুটি উন্মুক্ত রাখার জন্য ইউএনও মহোদয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেতু থেকে চাঁদা তুলতে নিষেধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবার পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে চাঁদাবাজদের পাওয়া গেলে ধরে আনার নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপরে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।