লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও প্রতিনিয়ত রোগী চাপ এবং লাইন লম্বা হচ্ছে। প্রতিদিন রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার, নার্সরা। নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়িরুমেও রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে যতজন নার্স এবং হাসপাতাল পরিষ্কার রাখতে যতজন পরিচ্ছন্নকর্মী দরকার তা নেই।
রোগীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জ্বর, পাতলা পায়খানা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ঠিকমতো সেবা পাচ্ছি না। পথের মধ্য শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত মানুষের যাতায়াত করছে আমাদের পাশ দিয়ে। এতে জীবাণু ছড়াতে পারে। কিন্তু কি করব... চিকিৎসা তো নিতে হবে। তাই কষ্ট করে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।
আরেক রোগী মেঝেতে শুয়ে জানান, বাড়ি থেকে গাঁথা, বালিশ, বিছনার চাদর নিয়ে এসেছি। কোনোমতে নিচে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। পাশে থাকা টয়লেটের দুর্গন্ধে বসা যাচ্ছে না। দুর্গন্ধে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। নার্সদের সেবা কম পাচ্ছি। কিছু মেডিসিন হাসপাতাল দিচ্ছে। বাকিগুলো বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলার আড়াই লক্ষ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। এখানে রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত রোগী ভর্তি ও সেবা দিতে হয়। হাসপাতালে নার্স দরকার ৩৮ জন, আছে মাত্র ৯ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী দরকার ১২ জন, আছে মাত্র ২ জন। হাসপাতালের টেকনেশিয়ান নেই। গর্ভবতী নারীর ডেলিভারির জন্য মিডওয়াইফ ৪ জনের একজনও নেই।
তিনি বলেন, নার্সসহ অন্যান্য জনবল চাহিদার জন্য অধিদপ্তরে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। হাসপাতালে রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নার্স দরকার। পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মী দরকার।