জনবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম

জনবল সংকটে টেনেটুনে চলছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রা ও চিকিৎসার মান নিয়ন্ত্রণের একমাত্র ভরসা ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা নিতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স নেই। মাত্র তিনজন ডাক্তার ও ৮ জন নার্স দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে হাসপাতালটি। প্রতিদিন এখানে তিন-চার শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গর্ভবতী নারীর বাচ্চা ডেলিভারিতে মিডওয়াইফ ছাড়াই চলছে মাসে ৫০-১০০ বাচ্চা প্রসবের কাজ।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রচুর রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। একজন মাত্র ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনিই পুরো হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় ডাক্তারের রুমে তালা ঝুলছে। হাসপাতালের আশপাশে ময়লা ও আর্বজনায় ভরপুর। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী ভর্তি ৮০-৯০ জন। সিট ছাড়াই নিচে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।

রোগীরা জানান, হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স খুবই কম। রোগীর চিকিৎসায় ডাক্তার, নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। মাঝে মাঝে ডাক্তার, নার্সরা বিরক্তও হন। এতে সঠিক সময়ে রোগীর সেবা নিশ্চিত হয় না।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে ৯ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ৩ জন। ২৪ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও আছেন ৮ জন। প্রসূতি মায়ের বাচ্চা ডেলিভারিতে ৪ জন মিডওয়াইফের একজনও নেই। পরিচ্ছন্নকর্মী ৫ জনের মধ্যে ২ রয়েছেন। আয়া ২ জনের পুরোটাই খালি।

উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, রামগতিতে সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। এখানে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি। ডাক্তার যোগদানের পর পরই চলে যাচ্ছেন। গত মাসে ৬ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চলে গেছেন। মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চলছে। ২৪ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৮ জন দিয়ে কাজ করছি। প্রতিমাসে ৫০-১০০ প্রসূতি মায়ের বাচ্চা ডেলিভারির কাজও চলছে। ৪ জন মিডওয়াইফ পোস্ট পুরোটাইই খালি। ডাক্তার, নার্স, মিডওয়াইফ, পরিচ্চন্নকর্মী, আয়া পর্যাপ্ত নেই।

জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাক্তার, নার্স সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। নতুন ডাক্তার যোগদানের পর তারা বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ নিতে যান। সবকিছু মিলে কষ্ট হলেও চিকিৎসা সেবা ধরে রাখা হচ্ছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত