ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের আগের ম্যাচে কেভিন ডি ব্রুইন, আর্লিং হালান্ড দুজনকেই বিশ্রামে রেখেছিলেন কোচ পেপ গার্দিওলা। গতকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে দুজনই ছিলেন শুরুর একাদশে। দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলে অবদান রাখেন ডি ব্রুইন। হালান্ড করেন একটি গোল। ম্যানসিটি ৪-২ গোলে হারিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসকে।
প্যালেসের বিপক্ষে মৌসুমে প্রথম দেখায় দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও পরে খেই হারিয়ে (২-২) ড্র করেছিল গুয়ার্দিওলার দল। ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তৃতীয় মিনিটেই গোল খেয়ে বসে সিটি। প্যালেসকে এগিয়ে দেন ফিলিপ মাতেতা। ১৩ মিনিটে সমতা টানেন ডি ব্রুইন। জ্যাক গ্রিলিশ কটব্যাক থেকে বল ধরে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন বেলজিয়ান এই মিডফিল্ডার। ৩৮ মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় গত তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইয়ুর জোরালো শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও ক্রসবারে লাগে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় সিটি। ডি-বক্সে উড়ে আসা একটি ক্রস প্যালেসের ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান রিকো লুইস, শটে দলকে এগিয়ে নেন ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ ডিফেন্ডার। ৬৬ মিনিটে হালান্ড ব্যবধান বাড়ান। ডি ব্রুইনের পাস থেকে গোল করেন হালান্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিন ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন হালান্ড। এবারের প্রিমিয়ার লিগে তার গোল হলো ১৯টি। চার মিনিট পর আবারও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ায় সিটি। রদ্রির পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডি ব্রুইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটির হয়ে ডি ব্রুইনের গোল হলো ১০০টি। সিটিতে ৩৭২ ম্যাচে তিনি শত গোলের মাইলফলক ছুঁলেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ১৬৭টি। ৮৬ মিনিটে ক্রিস্টালের হয়ে আরেকটি গোল শোধ দেন এদুয়ার্দো।
ডি ব্রুইন বলেন, ‘মৌসুমটি আমার জন্য স্বাভাবিক নয়, প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলাম (ইনুজরিতে)। মাঠে ফিরে অনেক সময় ভালো লাগে তো কখনো মনে হয় বিশ্রাম দরকার। সিটিতে সব সময়ই চাপ অনুভব করি। আমার জায়গা সহজেই পেয়ে যাব বিষয়টি এমনও নয়। আমি যদি পারফর্ম না করি থাকব না একাদশে।’
সিটি জিতে নিজেদের কাজটা করেছে। লিভারপুল ও আর্সেনালের ম্যাচে যে নজর থাকবে তাও জানালেন ডি ব্রুইন। ‘আমরা দেখব বাকিরা কী করে। আমাদের মঙ্গলবার আরও একটি খেলা আছে (চ্যাম্পিয়নস লিগে)। আমাদের কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে সেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
ক্রিস্টালের বিপক্ষে দুই গোল হজম না করলে সিটির গোল ব্যবধান (+৪০) লিভারপুলের (+৪২) সমান হতো। ৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট সিটির। এক ম্যাচ কম খেলে সমান ৭০ পয়েন্ট লিভারপুলেরও। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে আছে লিভারপুল। ৩০ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা আর্সেনাল গত রাতে ম্যাচ খেলেছে ব্রাইটনের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয় পেয়ে থাকলে আর্সেনাল উঠে যাবে শীর্ষে।
আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে নামবে গুয়ার্দিওলার দল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে তারা খেলবে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে।