বিশ শতকের ভয়ংকরতম ঘটনার তালিকায় রুয়ান্ডা গণহত্যা অন্যতম। রুয়ান্ডার সশস্ত্র হুতু জনগোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা ৩০ বছর পার করল এ বছর। গণহত্যার ভয়াল স্মৃতি স্মরণে গতকাল রবিবার রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পল কাগামে সপ্তাহব্যাপী স্মরণসভার উদ্বোধন করেন।
রাজধানী কিগালিতে এই স্মরণসভায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইথিওপিয়ার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল প্রায় ১০০ দিনব্যাপী হত্যাকা- চালানো হয়। ওই বছরের জুলাই পর্যন্ত আট লাখের মতো মানুষকে হত্যা করে হুতুরা। আড়াই লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ছিল তুতসি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। তবে ভুক্তভোগীর তালিকায় উদারপন্থি হুতুরাও ছিল।
১৯৯৪ সালের ৬ এপ্রিল বিমান ভূপাতিত করে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানাকে, যিনি ছিলেন একজন হুতু। তার হত্যাকা-ে হুতুরা মনে করেছিল, সংখ্যালঘু তুতসিরা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করেছে। এর পরদিন থেকে শুরু হয় হুতুদের নৈরাজ্য। তবে প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর কারণটি রুয়ান্ডা গণহত্যার প্রধানতম কারণ নয়; বরং এই গণহত্যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আর বিভাজন। এখনো হুতু আর তুতসিদের বিভাজনের দেয়াল পুরোপুরি মুছে যায়নি।
তুতসি-প্রভাবিত সংগঠন রুয়ান্ডা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (আরপিএফ) ১৯৯৪ সালের জুলাই নাগাদ রুয়ান্ডার রাজধানীসহ বেশিরভাগ এলাকা দখলে নেয়। একটি শান্তিচুক্তির হয় হুতু ও তুতসিদের মধ্যে। সমঝোতার সরকারের প্রেসিডেন্ট হন হুতু নেতা পাস্তুর বিজিমুংগু। বর্তমান প্রেসিডেন্ট পল কাগামে, যিনি ওই সময় আরপিএফের প্রধান ছিলেন, তিনি তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসেন। পরে জাতিগত সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে কারাগারে পাঠানো হয় বিজিমুংগুকে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হন কাগামে।
১৯৯৪ সালের অক্টোবরে রুয়ান্ডার গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে গণহত্যার বিচারকাজ চলে। ২০০৮ সালে রুয়ান্ডার সাবেক তিন প্রতিরক্ষা ও সেনা কর্মকর্তাকে গণহত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার মধ্য দিয়ে বিচার শেষ হয়।