রাজশাহী অঞ্চলে এবার আমের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই এবার গাছে মুকুল এসেছিল কম। যেসব মুকুল ছিল সেগুলো থেকে গুটি এসেছে কম। আবার বৃষ্টির দেখা নেই দীর্ঘ সময় ধরে। এখন চলছে খরতাপ। এতে ঝরে পড়ছে গুটি। আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টি না হলে ব্যাপক হারে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে আম নিয়ে এবার ভালো কোনো খবর নেই।
আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষায় থাকে আমের মৌসুমের। আমবাগান মালিক থেকে শুরু করে আম ব্যবসায়ী, কর্মচারীসহ আমের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষ অপেক্ষা করে আছে এই মৌসুমের। তবে এবার আশাবাদী হতে পারছে না তারা। যদিও কৃষি বিভাগ মনে করে যেটুকু গুটি রয়েছে, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে ভালো ফলনই হবে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এসব গাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ১৬৪ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হতে পারে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর আম বিক্রি থেকে এ অঞ্চলের চাষিদের আয় হয়েছিল প্রায় ১৫২৮ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মার্চ মাসের শেষে আমের মুকুল আসে। এরপর থেকে গুটি আসা শুরু হয়। এ বছর গাছে মুকুল আসে তুলনামূলক কম। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, পবা ও নগরীর বেশ কিছু এলাকার আম গাছে প্রচুর আম হয়। কিন্তু এবার সবখানেই মুকুল কম আসায় বাগান মালিকরা হতাশায় ছিল। এখন যে খরা চলছে এতে তারা আরও বেশি চিন্তিত। কারণ প্রতি মুহূর্তে ঝরে পড়ছে গুটি। বাঘার আমবাগানের মালিক আব্দুল কাদের বলেন, গুটি এখন দিন দিন বড় হচ্ছে কিন্তু এ সময়ে বৃষ্টি না হলে বড় বড় গুটি আমও ঝরে পড়বে। এমনিতেই এবার আম নিয়ে তেমন আশাবাদী হতে পারিনি। কারণ মুকুল কম। আবার গুটিও কম। এখন সেই আম যদি ঝরে পড়ে তাহলে আশাবাদী হওয়ার কী আছে? প্রকৃতি যদি সহায় হয় তবে হয়তো হতাশা কাটবে। না হলে আমের উৎপাদন কমে যাবে এবং মানুষকে বেশি দামে এবার আম খেতে হতে পারে। গোদাগাড়ীর ইশতিয়াক আহমেদ জানান, আমাদের বাড়িতে যে কয়টা আম গাছ রয়েছে তাতেই প্রতিবছরের আমের চাহিদা মেটায়। গত বছর প্রতিটি গাছেই অনেক মুকুল এসেছিল। এবারে মুকুল কিছুটা কম এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু আছে তাতেই আশা করছি চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দীন বলেন, আমের গুটি আসার সময়ের আদর্শ তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এখন এটি ওঠানামা করছে। এই ওঠানামা গুটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, আমের পরাগায়নে সহায়ক মাছি, প্রধানত সিরফিড মাছি শুধু গ্রীষ্মকালেই দেখা দেয়। চাষিরা সিরফিড মাছিকে একই রকম চেহারার জন্য মৌমাছি বলেও ডাকে। কিন্তু এবার পরাগায়নের সময় যথেষ্ট সিরফিড মাছি দেখা যায়নি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুক জানান, অপেক্ষাকৃত কম মুকুল এসেছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় গাছগুলোতে। গত বছর যেসব গাছে প্রচুর আম ধরেছিল, সেসব গাছে এবার কম ফল ধরতে পারে। এই পরিস্থিতি আবহাওয়া, পরাগায়নের সমস্যা ও রোগবালাই ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।