খুলনার রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি টিএলএন-১ (থ্রি লাইট নেভিগেশন)’ গ্রিজার সাখাওয়াত হোসেন মুন্সীর (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাহাজের ইঞ্জিন রুমের পাটাতনের নিচ থেকে নৌ বাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে।
সাখাওয়াত হোসেন মুন্সী নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের বাসিন্দা। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ফারুক হোসেন শিকদার সাখাওয়াত হোসেন মুন্সীর লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এদিকে নিখোঁজ আরেক জনের খোঁজে ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্গো জাহাজের নিখোঁজ গ্রিজার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন মুন্সী ও জাহাজের বাবুর্চি পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের কালাম শেখের লাশ উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি শুরু করে। বিকেল পৌঁনে ৪টার দিকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা সাখাওয়াত হোসেন মুন্সীর লাশ জাহাজের ইঞ্জিন রুমের পাটাতনের নিচ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
নৌবাহিনীর ডুবুরি মো. শাহ আলম বলেন, তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযানে বিকেল ৪টার দিকে গ্রিজার সাখায়েত মুন্সির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও বাবুর্চি আবুল কালামের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
এর আগে গত রবিবার বিএডিসির মরোক্কো থেকে আমদানি করা ১ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন টিএসপি সার নিয়ে সুন্দরবনের হারবাড়িয়া থেকে মোংলা বন্দর হয়ে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল পণ্যবাহী ‘এমভি টিএলএন-১ (থ্রি লাইট নেভিগেশন)’ নামক কার্গো জাহাজটি। পরে রূপসা নদীতে নির্মাণাধীন রেল সেতুর ৭৩ নাম্বার পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। এ সময় জাহাজে থাকা ১৩ জন নাবিকের মধ্যে ১১ জন সাঁতরিয়ে ও অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় তীরে উঠতে পারলেও জাহাজের গ্রিজার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন মুন্সী (৩৫) ও জাহাজের বাবুর্চি পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের কালাম শেখ (৫৫) নিখোঁজ হন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ফারুক হোসেন শিকদার আরও জানান, নিখোঁজ কালাম শেখের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।