ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা,আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে  খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও পেশাগত স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে যুক্ত করে মোট ৫০০ জনকে এ সুবিধা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একজন বাবা-মা যেমন সন্তানকে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তেমনি সন্তানকে খেলোয়াড় হিসেবেও গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখবেন। সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

মো. আমিনুল হক জানান, সরকারের ‘নতুন করে স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরী। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হবে, যা ২৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের আট বিভাগ ও দুটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে মোট ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি ও শুটিংসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণ করা গেলে সেখানে খেলার মাঠ নির্মাণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। পালেরহাট মাঠকেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাই তরুণদের মাদক ও অতিরিক্ত মোবাইলনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে পারে। একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সাবেক সদস্যসচিব আবু হোসেন বাবু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ডিসপ্লে শো পরিবেশন করে। মধুপুর ঢালী দলের সদস্যরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করেন। পরে প্রধান অতিথি প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
১৬ দলের এ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ফুটবল দল ও মধুপুর ইউনিয়ন ফুটবল দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত