দিনমজুর বাবা মুক্তিপণ জোগাড় করে জানতে পারলেন, ছেলে বেঁচে নেই

বাবা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরির কাজে গেছেন। মা-ও ঝিয়ের কাজে ব্যস্ত। বাড়ির পাশেই খেলছিল শিশুটি। এ সুযোগে অপহরণকারীরা কৌশলে শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে পরিবারে কাছে ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে। শিশুটির পরিবার কষ্ট করে মুক্তিপণ জোগাড় করেও নিখোঁজের দুদিন পর সন্তানের লাশ পেল গভীর বনের ভেতর।

এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই এলাকার কালিরটেক বনের ভিতর পুলিশ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে পুলিশ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের ভেতর অভিযান চালায় পুলিশ।

এর আগে রবিবার শিশু মাহিম নিখোঁজ হয় বাড়ি পাশ থেকে। পরে তার পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত রনি মিয়া (২৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে মুক্তিপণের টাকা চেয়ে না পেয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে খুন করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে খুনির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে বনের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শিশু মাহিম হত্যার একমাত্র আসামি রনি মিয়া পাশের সাবারচালা গ্রামের মৃত আবদুস ছাত্তারের ছেলে। তিনি পেশাদার চোর ও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হয়েছেন।

শিশুর স্বজনরা জানান, গত রবিবার বাড়ির পাশে খেলা করার সময় মাহিম নিখোঁজ হয়। রাতে সে বাড়ি না ফিরলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। একদিন পর একটি অচেনা নম্বর থেকে রনি পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় ধারদেনা করে টাকা যোগাড় করার পর সেই নম্বরে ফোন দিলে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু মাহিমের একমাত্র খুনি রনি মিয়া। তার দেওয়ায় তথ্যের ভিত্তিতে গভীর জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আকবর আলী জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এই খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তাকে (রনিকে) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।