১৮ মাস আগে অবনমনের ঝুঁকিতে থাকা এক দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। এরপর সেই দলকে জেতালেন ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম লিগ টাইটেল। বলা হচ্ছে, বায়ার লেভারকুসেন কোচ জাবি আলোনসোর কথা। এর মাধ্যমে দম্ভ চূর্ণ হলো বায়ার্ন মিউনিখের। টানা ১১ বছর পর জার্মান লিগ তথা বুন্দেসলিগা হাতছাড়া হলো ব্যাভারিয়ানদের।
রবিবার ভেরডার ব্রেমেনকে ৫-০ গোলে হারিয়ে লেভারকুসেনের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭৯। লিগ পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৩। দুই দলের ব্যবধান ১৬ পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় পরের পাঁচ ম্যাচে হারলেও শীর্ষেই থাকবেই লেভারকুসেন।
জিতলেই শিরোপা, এমন সমীকরণ থাকায় লেভারকুসেন সমর্থকেরা বিজয়োল্লাসের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে আসেন। পতাকা, ব্যানার আর স্কার্ফের সঙ্গে অনেক ভক্তের হাতে দেখা বুন্দেসলিগা ট্রফির রেপ্লিকা। ম্যাচশেষের বাঁশি বাজার পরই শুরু হওয়ার কথা শিরোপা উৎসব।
বায়ার লেভারকুসেনের সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর রেইনের কালমুন্দ একবার বলেছিলেন, 'ফুটবলের এই নিষ্ঠুর ও ক্ষমাহীন দুনিয়ায় ট্রফি না থাকলে আপনি কেউ না।' অথচ, তার ক্লাবেরই ছিল না কোনো টাইটেল! এর আগে একবারও লিগ শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি তারা।
তাই তো লেভারকুসেনকে বিদ্রুপ করে ইংরেজিতে ডাকা হয় 'নেভারকুসেন'। ১২০ বছরের সেই গ্লানি ঘুচল অবশেষে।
এর আগে লিগে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ছিল চারবার রানার্স-আপ হওয়া।
২০০০ সালে অবশ্য একবার সুযোগ এসেছিল। লিগের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত। পুচকে অখ্যাত এসপিভিজিজি আন্টারহেচিংয়ের সঙ্গে সেই ম্যাচে হেরে বসে তারা। দুই বছর পর আবার লিগের শেষ তিন ম্যাচ টানা হেরে বরুশিয়ার হাতে ট্রফি একরকম তুলেই দেয় তারা।
২০০১-০২ মৌসুমে লেভারকুসেন যেন নিজেদের ডোবানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। সেবার বুন্দেসলিগা টাইটেল হাতছাড়া করার পর জার্মান কাপ অর্থাৎ ডিএফবি-পোকালের ফাইনালে তারা শালকের কাছে হেরে বসে ৪-২ ব্যবধানে। তার মাত্র চার দিন পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের এক অবিশ্বাস্য গোলে হারায় ইউরোপসেরা হওয়ার সুযোগ।