মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ পেশাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে একজন ট্রেইনি অফিসার হিসেবে তাকে কাজে যোগদান করতে হয়। পরবর্তী সময়ে কাজের ভিত্তিতে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে উন্নীত হন। এ পেশায় টপ লেভেলের সরাসরি কোনো পদ নেই। তবে কোম্পানির সেলস বা বিক্রয় বিভাগের প্রধান হিসেবে কেউ নিযুক্ত হতে পারেন।

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও স্বাস্থ্য সেবাভিত্তিক পেশার মধ্যে যোগাযোগের মূল প্রতিনিধি। যে কোনো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির পণ্য প্রচার ও বিক্রির কাজ করেন তারা। তাদের গ্রাহক তালিকার মধ্যে ডাক্তার, নার্স ও ফার্মাসিস্ট উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য সেবাভিত্তিক পণ্য বিক্রয় করে, এমন যে কোনো প্রতিষ্ঠানে এ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

কাজের ক্ষেত্র

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও সীমিত পরিসরে সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল বিভাগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের। দেশে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। প্রায় সময় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে কাজের ধরন একই হলেও পদের নাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন মেডিকেল সার্ভিসেস অফিসার বা মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার বা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার।

কাজের ধরন

একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের মূল কাজ  হলো পণ্য সচেতনতা বাড়ানো, পণ্য সংক্রান্ত পরামর্শ ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং গ্রাহকদের নতুন পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সাধারণত যে ধরনের কাজ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা করে থাকেন তাহলো ক্লিনিক বা হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করা স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের অর্থাৎ ডাক্তার, নার্স ও ফার্মাসিস্টদের সঙ্গে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগ করা। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক খুঁজে বের করা। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের পেশাজীবীদের কাছে কোম্পানির পণ্য তুলে ধরা ও গুণগান করা। কোম্পানির পণ্য কেমন বিক্রি হচ্ছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত রেকর্ড রাখা। কোন ধরনের পণ্যের বিক্রি ভালো হচ্ছে, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে কোম্পানিকে জানানো। অন্যান্য মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে নিয়ে ট্রেড প্রদর্শনী, সম্মেলন ও প্রয়োজনীয় মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা। পণ্য বিক্রির বাজেট তৈরি করা। কোম্পানির জন্য মাসিক রিপোর্ট লেখা।

যোগ্যতা

এ পেশায় আসতে হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকার বাধ্যবাধকতা নেই।  তবে স্নাতক হলে চাকরির আবেদন করতে পারবেন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে। আমাদের দেশে সাধারণত যারা এই পেশায় আসতে চান তাদের এসএসসি বা এইচএসসি লেভেল পর্যন্ত বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী হওয়া জরুরি। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীর বয়স সাধারণত ৩০ বছরের মধ্যে হতে হয়। প্রায় সময় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের জন্য বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তাই এ পেশায় ভালো করতে হলে সেলসের দক্ষতা থাকা আবশ্যক। অন্যান্য দক্ষতা যা থাকতে হবে তাহলো মেডিকেল পণ্যের বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা। নতুন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানকে আকর্ষণ করতে কাজে দেবে এরকম যোগাযোগ দক্ষতাও থাকতে হবে। এ পেশায় প্রচুর মানসিক চাপ সামলাতে হয় একজন রিপ্রেজেন্টেটিভকে। ধৈর্যের সঙ্গে সামলানোর সামর্থ্য থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে প্রায় সময় পণ্য সংক্রান্ত কাজে আপনাকে দেখা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মিটিং ব্যবস্থাপনার জ্ঞান থাকাও জরুরি।

উপার্জন

আমাদের দেশে অভিজ্ঞতা ছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি-ভেদে একজন ট্রেইনি অফিসারের মাসিক বেতন ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা। কমিশনের ভিত্তিতে এ পেশায় উপার্জন আরও বাড়ে। ফুলটাইমার হিসেবে কাজ করতে হয়। সেলসের দক্ষতা ও যোগাযোগের দক্ষতার ওপরেই সাফল্য নির্ভর করে।