মোটিভেশনাল স্পিকার

অনেকে মোটিভেশনাল স্পিকার হতে চান। কিন্তু মোটিভেশনাল স্পিকার হতে আপনাকে জানতে হবে অনেক কিছু। যে বিশেষ গুণগুলো থাকলে সহজেই হয়ে উঠতে পারবেন একজন ভালো বক্তা।

আপনার কথায় জোর থাকতে হবে। শ্রোতাকে উদ্দেশ্য করে কথার মধ্যেই বারে বারে বলতে হবে পজিটিভ চিন্তা করুন, আপনাকে দিয়ে হবে, অনেক সহজ, অসম্ভব বলতে কোনো শব্দ নেই ডিকশনারিতে ইত্যাদি। হাসিমুখে কথা বলতে হবে। দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার বাণী শুনাতে হবে। সব থেকে বড় কথা, মানুষের সাইকোলজি বুঝতে হবে। এরপরেও যে বিষয়গুলো জানতে হবে তাহলো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন ভালো বক্তা হওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে, শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা। প্রথম দিকে আপনার অস্বস্তি হবে, তখন চোখ সরিয়ে শ্রোতার মাথার ওপরের দিকে তাকাবেন। ধীরে ধীরে যখন চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।

বিষয় ঠিক করুন

কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এলোমেলো বিচ্ছিন্ন ধরনের কথা না বলে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত বিষয়ের ওপর ফোকাস করা ভীষণ জরুরি। ক্রমাগত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গেলে কথার খেই হারিয়ে ফেলবেন, বাজে হয়ে যাবে আপনার বক্তব্য।

কণ্ঠস্বরে বৈচিত্র্য আনুন

পুরো বক্তব্যজুড়ে একই কণ্ঠস্বর শুনতে শুনতে শ্রোতারা ক্লান্ত হয়ে যায় খুব সহজেই। তাই কণ্ঠস্বরের ওঠানামা করুন। যেখানে দরকার সেখানে কণ্ঠস্বরের ওঠানামা আপনার বক্তব্যকে প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে। শ্রোতারাও ক্লান্ত হয়ে পড়বে না সহজে।

সাজিয়ে লিখুন

যখন আপনি দীর্ঘ বক্তব্য দিতে যান তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সব বিষয় সাজিয়ে লিখে ফেলুন একটা কাগজে। যখন একই বক্তব্যে অনেক বিষয় তুলে ধরবেন তখন কোন বিষয়টির পর কোনটি তুলে ধরবেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাজিয়ে ফেলুন। বক্তব্যের শুরু এবং শেষ অংশটা আকর্ষণীয় হওয়া খুব জরুরি।

ধীরস্থির হোন

আপনি যা বলতে চান তা খুব দ্রুত বলতে গেলে কথা জড়িয়ে ফেলবেন। শ্রোতারাও কনফিউজড হয়ে যাবে। তাই দীর্ঘ একটা শ্বাস নিন, তারপর ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টভাবে আপনার বক্তব্যটা তুলে ধরুন। আপনার প্রতিটি শব্দ যেন শ্রোতাদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায় সেদিকে নজর রাখুন।

অন্যকে আঘাত করবেন না

আপনার বক্তব্যে অন্য কোনো ব্যক্তি, সমাজ, জাতি কিংবা ধর্মকে আঘাত করবেন না। বিনয়ী হোন, অন্যের আবেগ অনুভূতির জায়গাগুলোকে সম্মান করুন, তাহলে বক্তা হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

নিজস্বতা বজায় রাখুন

আপনি যে বিষয় নিয়েই কথা বলুন না কেন বক্তব্যে আপনার নিজস্বতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার সামনের শ্রোতারা আপনার কথা, আপনার ধারণা, আপনার চিন্তা-চেতনার ভাগ নিতে এসেছে। তাই সবসময় বক্তব্যে নিজস্বতা বা মৌলিকতা বজায় রাখুন।