এই বিজ্ঞাপনের গানটা করতে গিয়ে টানা দুদিন খালি পায়ে থাকতে হয়েছে। শাহরিয়ার পলক ভাই বলছিলেন, একজন গ্রাম্য বধূ শায়লা, তার চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করতে হলে অন্তত এটা করতে হবে। আমি তাই করেছি। এক সময় অনুভব করলাম- আমি হয়ে গিয়েছি সেই প্রবাসীর স্ত্রী। যে স্বামীর জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে; কথাগুলো বলছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা।
এবারের ঈদে গ্রামীণফোনের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানটি নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়। এবার এই গানে ফুটে ওঠে একজন প্রবাসীর ঘরে ফেরার গল্প। প্রতি ঈদে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করেন স্ত্রী, কিন্তু স্বামী প্রবাস থেকে আসেন না। তাই শায়লা বলেন, ‘এইবারো কি আইবা না?’ প্রবাসী স্ত্রী শায়লার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা। এবারের ঈদের ছুটিতে এই বিজ্ঞাপনের গানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যম থেকে সবখানেই বেজেছে, এখনো বাজছে। স্বপ্ন যাবে বাড়ি গানের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত ইভা কিন্তু এবার ঈদে বাড়ি যাননি, ঈদ করেছেন রংপুরে শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে গিয়েও কাছের পরিচিত, অপরিচিত সবাই প্রশংসা করছে। ইভার ভালোই লাগছে। বললেন, ‘এই বিজ্ঞাপন যে আমাকে এত পরিচিতি এনে দেবে ভাবিনি। আমি রংপুরে ঈদ করতে এসেছি, এখানে অনেকেই আমাকে দেখছেন; বিজ্ঞাপনটি ভালো লেগেছে সে কথা জানাচ্ছেন।’
তবে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর মন্তব্য ইভার হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে। ইভা বললেন, ‘আমার হাজবেন্ড আমাকে একটি মন্তব্য দেখান। সেখানে একজন প্রবাসীর স্ত্রী বলছিলেন, আমার অভিব্যক্তি খুবই চমৎকার ও নিপুণ হয়েছে। কেননা তিনিও এমনভাবেই তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করেন। এই কথাগুলো আমার হৃদয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ছিল ইভার কাছে স্বপ্নের মতোই। সে ঘটনা জানিয়েই বললেন, ‘সংস্থাটির একটি বিজ্ঞাপন আগে করেছিলাম। আমার ছবি তাদের কাছে ছিলই। তারা অনেকের স্ক্রিনটেস্ট নিয়েছেন। কিন্তু পছন্দ হচ্ছিল না। পরে ডিওপি রাজু ভাই আমার ছবি দিলেন। পলক ভাই আমাকে নিশ্চিত করলেন। এরপর দুদিন ধরে মুন্সীগঞ্জে টানা শুটিং হলো। এই বিজ্ঞাপনের গানে শুটিং করতে গিয়ে শাহরিয়ার পলক ভাই যে পরিমাণ সমর্থন দিয়েছেন, এটা না দিলে হয়তো আমি পারতাম না। কেননা অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয় তিনি খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।’
ইভা হতে চেয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা অথচ হয়ে গেলেন মডেল ও অভিনেত্রী। যদিও শৈশবে হতে চেয়েছিলেন প্রকৌশলী। কিন্তু যখন অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক করছিলেন তখনই পরিকল্পনা করেন ব্যাংকে চাকরি করবেন তিনি। কিন্তু ২০১৮ সালের দিকে তিনি প্রাণ কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মডেল হিসেবে নিজের অভিষেক ঘটান। এরপর থেকেই বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন, করছেন অভিনয়ও। তবে আলাদা আরেকটি পরিচয় তার রয়েছে তিনি একজন ভয়েস আর্টিস্টও। বিদেশি অনেক টিভি সিরিজের ডাবিংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন, দিয়েছেন দুরন্ত টিভির বাচ্চাদের কার্টুন সিরিজেও। এখনো এটা ইভার পছন্দের কাজ।
তবে ইভা হতে চান পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। ইভার ভাষ্য, আসলে আমার জীবনের লক্ষ্য নানা সময়ই নানা রকম ছিল। তবে কখনোই ভাবিনি যে আমি অভিনয় করব। অথচ আমি এখন অভিনয় শিল্পী হতে চাই। এরইমধ্যে নির্বাণ নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি যেটি আন্তর্জাতিক উৎসবে যাচ্ছে। ওয়াহিদ তারেকের পরিচালনায় ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ নামে চলচ্চিত্রে শহীদুল্লা কায়সারের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছি, ‘সিটি অফ লাইট’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যে কাজ করেছি। ফলে এখন আমি অভিনয়েই নিয়মিত হতে চাই।