এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে শিরোপা স্বপ্ন ধূসর হতো মোহামেডানের। একটা সময় ৫-১ গোলের লিড নিয়ে সাদা-কালোরা খানিকটা আয়েশী হয়ে পড়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিল ঊষা ক্রীড়া চক্র। তবে শেষ পর্যন্ত ৬-৫ গোলে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেছে মোহামেডান। গ্রিন ডেল্টা প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শেষ ম্যাচে চির শত্রু আবাহনীকে হারালেই এক মৌসুম পর শিরোপা ঘরে তুলবে মোহামেডান।
লিগ শিরোপা নিয়ে চলছে এখন ত্রিমুখী লড়াই। শেষ দিনের শেষ ম্যাচ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কারা জিতবে মর্যাদার শিরোপা। মোহামেডানের মতো সম্ভাবনা আছে আবাহনী ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়ংস ক্লাবেরও। মোহামেডানের সংগ্রহ এখন ১৪ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে আবাহনীর সংগ্রহ ৩৪। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা মেরিনার্সের ৩১। অর্থাৎ এদের যে কারও ঘরেই যেতে পারে শিরোপা।
মেরিনার্স শেষ দুই ম্যাচে খেলবে দুর্বল অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ও বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে। সুপার লিগের প্রথম তিন ম্যাচে সেরা তিন প্রতিপক্ষ ঊষা, আবাহনী ও মোহামেডানকে হারানো মেরিনার্সের এই দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পাওয়াই স্বাভাবিক। সেটা পেলে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াবে ৩৮ । শেষ ম্যাচে মোহামেডান ও আবাহনী যদি ড্র করে, সেক্ষেত্রে এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে মেরিনার্স। যদি মোহামেডান জিতে, তবে তারাই হবে সেরা। আর যদি আবাহনী জিতে যায় এবং মেরিনার্স শেষ দুই ম্যাচ জিতে, তবে শিরোপা ভাগাভাগি হবে এই দু’দলের মধ্যে।
মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে হওয়ার লিগের একমাত্র ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারেই মোহামেডান এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে। একেবারে প্রথম মিনিটেই পিসি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন মালয়েশিয়ান ফাইজাল বিন সারি। এর দুই মিনিট পর ফিল্ড গোল করে ব্যবধান বাড়ান আল নাহিয়ান শুভ। ১৩ মিনিটে আরেকটি সফল পিসিতে ৩-০ করেন ফাইজাল বিন সারি। তবে পরের মিনিটেই ব্যবধান কমিয়েছিলেন ঊষার ভারতীয় রিক্রুট ইসরাত ইখতিদার। তবে আরও দুই গোল করে মোহামেডান অনেকটাই নির্ভার হয়ে পড়েছিল।
১৬ মিনিটে ফিল্ড গোলে হ্যাটট্রির পূরণ করেন ফাইজাল। আর ৩২ মিনিটে তার সহদোর ফিতরি বিন সারি যোগ দেন গোলৎসবে। ৫-১ গোলে পিছিয়ে পড়া ঊষার অবশ্য খোলস ছেড়ে বের হয়ে জবাব দিতে শুরু করে। ৩৪ মিনিটে ইখতিদার করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এরপর ৪৪ ও ৪৭ মিনিটে আরও দুই গোল পেয়ে যায় দলটি। পিসি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ভারতীয় মোহাম্মদ শারিক। তিন মিনিট পর স্টিকের কাজ দেখিয়ে ব্যবধান ৫-৪-এ নামিয়ে আনেন রাজু আহমেদ তপু।
তবে পরের মিনিটেই দ্বীন ইসলাম ইমন গোল করে মোহামেডানের ব্যবধান বাড়ান। শেষ পর্যন্ত এই গোলটাই জয় নিশ্চিত করে মোহামেডানের কারণ। ৪৯ মিনিটে আরশাদ একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান এক গোলে নামিয়ে এনেছিলেন। তবে বাকি সময়টায় ঊষাকে আর সুযোগ দেয়নি মোহামেডান। তাতে তাদের শিরোপা স্বপ্ন যেমন টিকে রইলো, ঠিক সেভাবেই শিরোপা রেস থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেলো ঊষা।
বুধবার অ্যাজাক্সের বিপক্ষে খেলবে আরেক শিরোপা প্রত্যাশী মেরিনার্স। ১৯ এপ্রিল শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পুলিশ। সেই ম্যাচের পরেই শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণে নামবে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান ও আবাহনী।