মুশতাককে দিয়ে লেগ স্পিনার খুঁজতে চায় বিসিবি

মঙ্গলবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাকিস্তানের কিংবদন্তী লেগস্পিনার মুশতাক মোহাম্মদকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে তাকে ঢাকায় পাবার আশা করছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস। তার সঙ্গে চুক্তি আপাতত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে জালাল জানিয়েছেন, মুশতাককে ঘিরে বড় পরিকল্পনা আছে বিসিবির। দুই পক্ষের সমঝোতা হলে বিশ্বকাপের পরও বাংলাদেশে জাতীয় দলের বাইরেও অন্য ভূমিকায় দেখা যাবে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন বোলিং কোচ/পরামর্শকের ভূমিকা পালন করা মুশতাককে।

বিসিবির সঙ্গে মুশতাকের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ অবধি। যেহেতু দুপক্ষের একসঙ্গে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তাই আপাতত এই মেয়াদেই মুশতাককে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। তবে পরিকল্পনা আছে মুশতাককে নিয়ে আরও অনেক কিছুর, বিশেষ করে লেগস্পিনার তুলে আনার।

দেশের প্রচলিত স্পিন শক্তি বামহাতি স্পিনের মানোন্নয়নে গত বছর সাতেক ধরে বিদেশী বামহাতি স্পিনারদেরই নিয়োগ দিয়ে আসছিল বিসিবি। যে কারণে রঙ্গনা হেরাথ, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, সুনীল যোশিরাই কাজ করে আসছেন ২০১৭ সাল থেকেই। এবার ঘরানা বদলের কারণটা জানালেন জালাল, '(মুশতাকের সঙ্গে) আলোচনা হয়েছে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য। কিভাবে আমরা বেনিফিট হতে পারি সেটা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের একজন ডানহাতি লেগ স্পিনারের ঘাটতি আছে। রিশাদ ছাড়া অন্য কেউ... রিশাদ এখন জাতীয় দলে আছে। প্রতিভাবান দুয়েকজন যারা আছে, তাদের জন্য বড় একটা সাপোর্ট হবে (মুশতাক)। ্যওর মন ব্যাপক অভিজ্ঞতা এটা তাদের সঙ্গে শেয়ার করাটা বিরাট ব্যাপার হবে। একই সঙ্গে মুশতাক আহমেদ আমাদের সঙ্গে থাকার সময়ে যদি আমাদের দেশে আনাচে কানাচে আরো ভালোমানের লেগ স্পিনার থাকে যারা এক্সপোজার পায়নি, তাকে দিয়ে যদি স্পিনার হান্টটা করতে পারি আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। লেগ স্পিনারদের ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে।'

জালাল আরও জানান, 'আমরা কিন্তু আগেও করেছিলাম একবার। এখন ডান হাতি রিস্ট স্পিনার পাওয়া খুব কঠিন। তারপরও ও (মুশতাক) আসার পর কেউ অনুপ্রাণিত হতে পারে। কারণ মুশতাক আহমেদের কাছে অনেক বেশি টিপস পাওয়া যাবে। তার এতো অভিজ্ঞতা, বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, কোচিং এবং প্লেয়িং ক্যারিয়ার মিলিয়ে এটা একটা ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করতে পারবে। সুতরাং এটা বিগ হেল্প। আমরা তার থেকে ওই সাপোর্টটা পেতেও পারি।'

৫৩ বছর বয়সী মুশতাক ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ ছিলেন, পরবর্তীতে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্যও বিভিন্ন মেয়াদে কাজ করেছেন। মুশতাক  যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন বেশ আগেই, বাংলাদেশে তিনি বছরে কতদিন সময় দেবেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সম্পৃক্ত থাকবেন কি না এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া বাকি। তাই তাকে ঘিরে বিসিবির পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক স্তরেই। তবে যদি সবুজ সংকেত দুই তরফেই মেলে তাহলে লেগস্পিনারের যে ঘাটতি দেশের ক্রিকেটে, সেটা দূর করতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপের হয়তো দেখা মিলবে আগামীতে।