গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশাল দেহের দুটি শঙ্কর জাতের ষাঁড় গরু। এদের একটি কুচকুচে কালো অন্যটি হালকা লালচে রঙের। এ ষাঁড় দুটি সম্পর্কে মামা ভাগিনা। তাই সবাই সুন্দর আকর্ষণীয় মামা ভাগিনাকে দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা সবাই ঘুরে ফিরে একই স্টলে ভিড় করছিল মামা ভাগিনা ষাঁড় দুটিকে দেখতে। ষাঁড় দুটির ওজন অন্তত ১২ শ কেজি হবে বলে দাবি করেছেন মালিক। বরমী ইউনিয়নের দরগাচালা গ্রামের পল্লী পশু চিকিৎসক মুজিবুর রহমান এ দুটি ষাঁড় মেলায় নিয়ে আসেন। প্রদর্শনী মেলার ক্যাটাগরি- ১ বড় প্রাণী স্টলে এ দুটি ষাঁড় গরু রাখা হয়েছিল। এ স্টলেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে দিনব্যাপী এ মেলা চলে। শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসি এ মেলার উদ্বোধন করেন। উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা শোভন রাংসার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পক কর্মকর্তা ডা.একেএম আতিকুর রহমান সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ।
এ মেলায় ৩৬ টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় নেপালি ভুট্টি জাতের গাভী গরু ও সাদা মহিষও প্রদর্শন করা হয়। আরও বিভিন্ন ধরনের পশু প্রদর্শিত হয়।
পল্লী পশু চিকিৎসক মুজিবর রহমান বলেন, এ ষাঁড় দুটি সম্পর্কে মামা ভাগিনা। তাই সবার কাছে মামা ভাগিনা নামেই পরিচিত। কালো ষাঁড়টির বয়স ৩ বছর আর হালকা লালচে ষাঁড়টির বয়স আড়াই বছর হবে।
তিনি বলেন, বাড়ির পালিত দুটি গাভীর গর্ভে এ দুটি ষাঁড়ের জন্ম হয়েছে। সে গাভী দুটি সম্পর্কে মা মেয়ে। আর এ কারণে দুটি ষাঁড় মামা ভাগিনা।
অ্যামেরিকান ডেইরি (এডিএল) থেকে গাভীগুলোকে বীজ দেওয়া হয় শঙ্কর জাতের। এরপর এ দুটি বাছুর জন্ম নেয়। নিয়ম করে গোসল দেওয়া হয়। খোলা বাতাসে গাছের নিচে বেঁধে রেখে খাবার দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এ দুটি ষাঁড়ের ওজন অন্তত ১২শ কেজি। যা কোরবানি ঈদ আসতে আসতে দেড় টন ওজন দাঁড়াবে। নিয়ম করে ভূষি ও দানাদার খাবার পরিমিত করে দেওয়ায় স্বাস্থ্য বেশ ভালো আছে ষাঁড় দুটির।
দর্শনার্থী আবদুর রহিম বলেন, খুবই বড় আকারের ষাঁড় দুটি মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলায় আগত সবাই ঘুরেফিরে এ স্টলে ভিড় করছে মামা ভাগিনা দুটি ষাঁড় গরু দেখতে। খুই শান্ত স্বভাবের গরু দুটি দেখতেও দারুণ আকর্ষণীয়। এমন আকর্ষণীয় গরু দেখে অনকেই গরু পালনে আগ্রহী হতে পারে।
উপজেলা ভেটেরিনানরি সার্জন ডা. আলী আকবর বলেন, মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মাঝে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। বড় প্রাণি ক্যাটাগরিতে খামারি মুজিবুর রহমানের ষাঁড় গরু দুটি পুরুস্কার পাওয়ার দাবি রাখে। তবে নানা বিষয়ে বিশ্লেষণ করে পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান বলেন, দিনব্যাপী এ মেলায় ৩৬ টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। তারা তাদের স্টলে নানা জাতের দেশি বিদেশী ছোট বড় পশু প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, মেলায় সাদা মহিষ ও দুটি বড় আকৃতির শঙ্কর জাতের ষাঁড় গরু ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। পোল্ট্রি ফার্মে বা ডেইরি ফার্মে ব্যবহৃত আরও অনেক যন্ত্রপাতিও প্রদর্শন করা হয় মেলায়।