রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু হৃদরোগ ইউনিটে গত শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি এখনো। আজ রবিবার হাসপাতাল ঘুরে দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক কথা বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে।
তারা জানান, কার্ডিয়াক আইসিইউ বিভাগে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে আগুন লাগে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তারা বিভিন্ন বিভাগে থেকে হাসপাতালের ভবনের বাইরে বের হয়ে আসেন। তারা বলেন, এটি দেশের সবচেয়ে বড় শিশু হাসপাতাল, অথচ পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপকব্যবস্থা নেই। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও যেকোনো সময় বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
তবে শুক্রবারের আগুন ই প্রথম নয় এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) একই হাসপাতালের তৃতীয় তলায় বি-ব্লকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সামনের বারান্দায় ইন্টারনেটের ক্যাবল থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে শুক্রবারের আগুন এসি বিস্ফোরণ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নিয়ে সপ্তাহের মধ্যে দুবার আগুনের ঘটনা ঘটল বিশেষায়িত এই হাসপাতালে।
শুক্রবার যখন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে তখন হাসপাতালেই ছিলেন কাজীপাড়ার বাসিন্দা ফরিদা বেগম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, হঠাৎ দেখি আইসিইউ গেটের সামনে ধোঁয়ায় পুরো ফ্লোর ভরে যাচ্ছে। আমিসহ আরও কয়েকজন দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে সবাইকে আগুনের কথা জানাই। তখন ভেতরে কেবল দুজন নার্স ছিলেন। এরপর দ্রুত রোগীদের বাইরে নিয়ে আসা হয়।
একই হাসপাতালে কথা হয় ইকবাল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহে দুবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এখন প্রতিমুহুর্ত আতঙ্ক কাজ করে যদি আবার আগুন লেগে যায়। আগুনের ঘটনার পর অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমনকি দুটা আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত ও এখনও জানা যায়নি।
তবে আতঙ্ক থাকলেও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। রোগীদের ভিড় দেখা গেছে হাসপাতালের আউটডোর, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরাও কাজ করছেন পুরোদমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা তো এখন আগুনের নগরী। এইতো কিছুদিন আগে বেইলী রোডের দুর্ঘটনায় অনেকগুলো প্রাণ নিভে গেছে। কেবল শিশু হাসপাতাল নয় অন্যান্য বড় হাসপাতালেও অগ্নি নিরাপত্তা খুব বেশি নেই। আগুনের পর থেকে মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে।
হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তাদের বলা হয়েছে। আগুনের ঘটনায় রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাসপাতাল থেকে পুনরায় যাতে আগুনের ঘটনা ঘটতে না পারে সে বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।