এ কী হলো শেখ জামালের!

শনির দশা কাটছেই না শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের। প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ ম্যাচে তারা হেরেছে আবাহনীর কাছে। সেই শোক কাটতে না কাটতেই বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছে মঙ্গলবার। ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের ৩-০ ব্যবধানে হারের লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। প্রথমার্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে পুলিশ নেয় তিন গোলের লিড। এরপর শত চেষ্টা করেও হারের ব্যবধান কমাতে পারেনি শেখ জামাল। পুলিশের রক্ষণে বারবার হানা দিয়েছে ঠিক। তবে ফিনিশারদের হাস্যকর সব ভুলে গোলের দরজা খোলা হয়নি। ফলে স্বাধীনতা কাপের মতো ফেডারেশন কাপের শেষ আট থেকে বিদায়ের পরিণতি মেনে নিতে হয়েছে ধানমন্ডি জায়ান্টদের। বড় জয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা পুলিশকে ৭ মে লড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের সঙ্গে।

গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছিল পুলিশ। শেখ জামাল ও পুলিশ ছিল একই গ্রুপে। গ্রুপপর্বে দুদলের সাক্ষাৎ শেষ হয়েছিল ২-২ ড্রয়ে। ৬ এপ্রিল লিগ ম্যাচেও দুদল পয়েন্ট ভাগ করে একই স্কোরলাইনে। অথচ মঙ্গলবার শেখ জামালকে পাড়ার দলে পরিণত করে শেষ চারে উঠে গেছে পুলিশ।

গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক রূপে ধরা দেয় পুলিশ। দলটির ভেনিজুয়েলার প্লে-মেকার এদুয়ার্দ মোরিও পুরোটা সময় ছিলেন চালকের ভূমিকায়। জামালের রক্ষণকে বিভ্রান্ত করতে বারবার আক্রমণ গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটেই লিড নেয় পুলিশ। মোহাম্মদ মিঠুর ফ্রি কিক থেকে ব্যাক হেডে লক্ষ্যভেদ করেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার জাভোখির শখিবোভ। অনেকটা লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি জামাল কিপার মাহফুজ হাসান প্রিতম। এর ছয় মিনিট বাদেই শেখ জামালকে ফের স্তব্ধ করে দেন কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি শাহ কাজেম কিরমানি। তবে তার গোলে বড় অবদান মোরিওর। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে বডি ডজে ফেলে দেন জামালের দুই ডিফেন্ডার তাজউদ্দিন ও মঞ্জুরুর রহমানকে। এরপর ছোট ডি-বক্সে দারুণ সেটআপ ফেলেন। চলতি বলে পা ছুঁইয়ে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তরুণ কাজেম। গ্রুপপর্বেও গোল ছিল কাজেমের। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ফের জামালের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগে পুলিশ তৃতীয় গোলের দেখা পায়। এবার মোরিওর ফ্রি কিক ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি এক ডিফেন্ডার। বল যায় শাহেদ মিয়ার পায়ে। এই ফরোয়ার্ডের ভলিটা ছিল এলোমেলো। তবে সেটা চলে যায় বক্সের ভেতরে থাকা আজমত আব্দুল্লায়েভের কাছে। কেউ বুঝে ওঠার আগে এই উজবেক ডিফেন্ডার ব্যাক হিলে প্রিতমকে বোকা বানান।

বিরতির পর স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ রক্ষণে দিয়েছে বেশি মনোযোগ। তাতে মাঠে জায়গা পেয়ে যায় জামাল। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে জামালের দুর্গতি কমাতে পারেননি দলটির ফরোয়ার্ডরা। ৭৯ মিনিটে গাম্বিয়ান আবু তোরের ফ্রি কিক দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে গেলে হতাশ হতে হয়। এর কিছুক্ষণ পরে জায়েদ আহমেদের ফ্লিকও ছিল না লক্ষ্যে। ৮৪ মিনিটে তোরের ফ্রি কিক ক্রসবারের উপরিভাগে লেগে বের হয়ে গেলে শেখ জামালের হতাশা বাড়ে। আর যোগ করা সময়ে তোরের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে পুলিশের জয়ের ব্যবধানটা বড়ই রাখেন আখরোরবেক উকতামোভ।

২০১৫ সালে তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপ ঘরে তুলেছিল শেখ জামাল। এরপর থেকেই যেন পথহারা দলটি। মর্যাদার এই আসরে আর ফাইনালেই ওঠা হয়নি গত ৯ বছরে।