ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটক ১৩৩ জন ছাড়া পেয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভের অভিযোগে রাতভর ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলার প্রেক্ষাপটে তাদের আটক করা হয়।

এর আগে সোমবার ম্যানহাটনে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জড়ো হয় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, ১৩৩ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে ফৌজদারি আদালতের সমনের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও ইয়েল, কলম্বিয়াসহ অন্যান্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের গতিতে ভাটা পড়েছে। এর আগে ম্যানহাটনের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সপ্তাহে ধর্মঘটরত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার সেখানে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে ইয়েল এবং নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় পদক্ষেপটি যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উৎসাহিত করেছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট কাজ করছেন না। বিশেষ করে ইহুদি শিক্ষার্থীদের সমালোচনা দমন করতে খুব কমই কাজ করছেন।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিউ ইয়র্কের ১০ জন রিপাবলিকান সদস্য কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট মিনুচে শফিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে,  উপত্যকায় ইসরায়েলের আক্রমণে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এছাড়াও ইসরায়েল গাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তাদের ১২টি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোই ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলের সমর্থনে পাল্টা বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, এই বিক্ষোভ ইহুদি বিদ্বেষে পরিণত হয়েছে। ইহুদি শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ বোধ করছে।