৫ লাখ ৭০ হাজার ঘুষের টাকাসহ আটক হওয়া পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা ও মোশাররফ হোসেনকে বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলী।
আটককৃতরা হলেন- দাপুনিয়া ইউনিয়নের দিকশাইল গ্রামের মিনহাজুল ইসলামের ছেলে পাবনা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা ও কুমিল্লার মেঘনা থানার শিবনগরের আনোয়ার হোসেনের ছেলে পাবনা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গতকাল (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আটক করে তাদের থানায় আনা হয়। এ সময় জব্দ হওয়া টাকার বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ টাকা লেনদেনের বিষয়টি দুদক অনুসন্ধান করবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে গতকাল মঙ্গলবার পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে যান সংবাদকর্মীরা। এ সময় তথ্য ও বক্তব্যের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানার কক্ষে গেলে ওই কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পান। কয়েকবার নক দেবার পর মাসুদ রানা দরজা খুললে ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব কমিশনার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি মোশাররফ সহ কয়েকজনকে দেখতে পান সংবাদকর্মীরা। এ সময় টেবিলে বিপুল অর্থও দেখা যায় এবং এরপরই আরেক ঠিকাদার কনক সেখানে হাজির হন।
সরকারি অফিসে ঠিকাদারের সাথে বন্ধ কক্ষে কিসের অর্থ লেনদেন হচ্ছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তখন সংবাদকর্মীরা বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করে পুলিশকে জানায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদার রাজিব ও কনকসহ কয়েকজন পালিয়ে যান। এরপর পুলিশ দুদককে জানালে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের আটক করে।