সেঞ্চুরির সংখ্যা ‘দুই’ থেকে আরও বাড়াতে চাই

মেহরাব হোসেন অপি বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। আপনিও তাই, নারী ক্রিকেটে। ভারতের বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরির দিকে ফিরে চাইলে কী ভাবনা মাথায় আসে?

ফারজানা হক পিংকি : ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি আমার অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা। ওই সিরিজটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচ জিততে পারলে সিরিজ আমাদের হবে। ভারতের মতো দলকে সিরিজ হারাতে পারব এমন একটা ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া অসাধারণ অনুভূতি। ওই ম্যাচটি টাই হওয়ায় সিরিজ ড্র করেছিলাম আমরা। আমার রান দলের কাজে লেগেছে, সেটি বেশি ভালো লাগার বিষয়।

আপনি এর আগেও সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন। ২০১৯ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে এসএ গেমস টি-টোয়েন্টিতে। ওই ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতিও সেঞ্চুরি করেছিলেন।

ফারজানা হক পিংকি : ওই দিনের অনুভূতিটা মিশ্র। সেদিন আমার ব্যাটিং একই সঙ্গে ভালো ও খারাপ হচ্ছিল। একটা সময়ে আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল হয়তো আউট হয়ে যাব। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যখন হান্ড্রেডটি হলো, তখন অতটা উত্তেজনা কাজ করেনি, গেম সিচুয়েশনে ছিলাম বলে বোধ হয়। পরে অবশ্য র‌্যাংকিং রেটিংয়ে যখন পারফরম্যানসটি যোগ হয়, তখন বেশি ভালো লাগা কাজ করেছিল।

সেঞ্চুরি নিয়ে যখন কথা হচ্ছেই, আপনি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা প্রথম নারী ক্রিকেটার। কোন সেঞ্চুরিটাকে এগিয়ে রাখবেন?

ফারজানা হক পিংকি : অবশ্যই ভারতের বিপক্ষে করা সেঞ্চুরিটি। ওই ম্যাচটি আমরা ড্র করেছিলাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে আমরা হেরে যাই। ওই সফরেও প্রথম ম্যাচটি জিতেছিলাম আমরা। দ্বিতীয় ম্যাচটি (সেঞ্চুরির) জিততে পারলে সিরিজ আমাদের হতো। সেটা হয়নি। তবে সেঞ্চুরি করার আলাদা আনন্দ আছে। ভালো লেগেছিল সেবারও। কিন্তু আমি মনে করি, এই ভালো লাগাটা শুধু তখনই ছিল। আমার ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু করার ইচ্ছা আছে। তার জন্য আমি কাজ করছি। দেশের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ পাক যদি সুস্থ রাখেন আরও কিছু দিতে চাই।

পিংকি কীভাবে ক্রিকেটার হয়ে উঠল?

ফারজানা হক পিংকি : গাইবান্ধায় আমি ছোটবেলা থেকেই আমার ভাই-ব্রাদারদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। ওখান থেকে আস্তে আস্তে আমাদের জেলা স্টেডিয়ামে যাওয়া শুরু হলো। ওই সময়ে বিকেএসপির সার্কুলার দেখি। চেষ্টা করি ভর্তি হতে। পরে সুযোগ পেয়ে ভর্তি হই বিকেএসপিতে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে আজ এখানে।

গত বছরটি আপনি দুর্দান্ত কাটালেন। এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ফারজানা হক পিংকি : আমার তো অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। সামনে অনেক ভালো ভালো টুর্নামেন্ট আছে, টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ আছে, সামনের বছর ওয়ানডে ওয়ার্ল্ড কাপ আছে। এর মাঝে আরও অনেক সিরিজ রয়েছে। অবশ্যই আমি চাইব একজন ব্যাটার হিসেবে যেন ভালো পারফর্ম করতে পারি। সেঞ্চুরির এই ‘দুই’ সংখ্যাটাকে যেন আরও অধিক করতে পারি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দল মাঠে চমৎকার নৈপুণ্য দেখাচ্ছে। পুরো দলটাকে এক সুতোয় গাঁথা মনে হচ্ছে। ড্রেসিংরুমে বা দলের ভেতরে কী পরিবর্তনের জন্য এমনটা হচ্ছে?

ফারজানা হক পিংকি : আমাদের ড্রেসিংরুমে একটা জিনিস সব সময়ই চলে আসছে। আমরা সবাই মিলে উজ্জীবিত থাকি, বিভিন্ন উপায়ে। আমরা খুব আনন্দ করি, মজা করি, গান-বাজনা করি। আমাদের বর্তমান ক্যাপ্টেন দলকে খুব ভালোভাবে মোটিভেট করে, চিয়ারআপ করে। আমরা যখন মাঠে চলে যাই, অনুশীলনে বা ম্যাচে তখন মেন্টালিটিটা টাফ থাকে। অনেক প্রেশার থাকে। তো, আমরা ড্রেসিংরুমে প্রচুর এনজয় করি। চেষ্টা করি ওই প্রেশারটা না নিয়ে যেন মাঠে নামতে পারি। দলে কিছু সিনিয়র প্লেয়ার আছে, জুনিয়র প্লেয়ার আছে। আমি মনে করি, সিনিয়র-জুনিয়র কম্বিনেশনের জন্য ড্রেসিংরুমে হেলদি পরিবেশটা বজায় থাকে।

আপনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এক যুগ পার করে ফেলেছেন। এখন দলে প্রজন্ম বদল হচ্ছে। মারুফা-রাবেয়ারা আসছেন। দলের অভিজ্ঞ একজন হিসেবে পালাবদলটা কেমন দেখছেন? 

ফারজানা হক পিংকি: এটা মেনে নিতেই হবে। আমি ২০১২ সাল থেকে খেলে আসছি, এখনো খেলছি। আসলে একজনের পর আরেকজন আসবেই। এভাবেই হাতবদল হবে। এখন তরুণ যারা দলে আসছে, কোনো সন্দেহ নেই তাদের প্রতিভা ও পারফরম্যানস দুটোই আছে। একই সঙ্গে তরুণ-অভিজ্ঞ মিলিয়ে যারা এখন বাইরে আছে, যারা দলে আসতে পারে তাদের সুযোগের দিকেও ম্যানেজমেন্ট-কোচ-নির্বাচকদের দৃষ্টি থাকলে টিমের ভালো করার প্রবণতা বাড়বে। সামনে বড় বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। বিশ্বকাপ আছে। আমি মনে করি, এ রকম জায়গায় অভিজ্ঞদের কম্বিনেশন বেশি থাকা উচিত।

দেশের নারী ক্রিকেটের ঘরোয়া কাঠামো আপনার দৃষ্টিতে কেমন?

ফারজানা হক পিংকি : আমাদের দুটি লিগ হয়, প্রিমিয়ার লিগ ও ফার্স্ট ডিভিশন। বিভাগভিত্তিক একটি স্কুল টুর্নামেন্ট আরম্ভ হবে। আমার মনে হয় আরও এক-দুইটা টুর্নামেন্ট যদি শুরু করা যায়, তাহলে আমাদের প্লেয়াররা অবশ্যই বড় হবে। প্লেয়ারদের ক্ষুধাটাও থাকবে। কম্বিনেশনটা ভালো হলে, জাতীয় দল গড়াটাও অনেক সহজ হয়ে আসবে।

ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেপ্টেম্বরে, আপনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা কী?

ফারজানা হক পিংকি : আমি এখন দলের বাইরে। আমার যদি সুযোগ আসে, আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে চাই।

বিএসপিএর বর্ষসেরার স্বীকৃতি পেয়ে কেমন লাগছে?

ফারজানা হক পিংকি : এটা অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। ক্রীড়া সাংবাদিকরাও কিন্তু ক্রিকেটের একটা অংশ। সবাই মিলে একটা পরিবারের মতো। এমন একটা পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।