গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা জানাল ইসরায়েল ও হামাস

দীর্ঘ ছয়মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। আর এই যুদ্ধের বলি হচ্ছেন নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। গত বছরের শেষে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি হলেও এরপর আর যুদ্ধবিরতি হয়নি অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে।

বার বার আলোচনায় বসলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পারস্পরিক শর্তে সম্মত করা যাচ্ছে না হামাস বা ইসরায়েলকে।  

তবে এবার গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত হামাসের সবশেষ প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। গোষ্ঠীর মুখপাত্র খলিল আল হায়া শনিবার কাতার থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর রয়টার্স।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামাস আজ মিশরীয় এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৩ এপ্রিল উপস্থাপিত প্রস্তাবে ইহুদিবাদী দখলদারিত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। উত্তর জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে  অধ্যায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

রয়টার্স জানায়, শুক্রবার একটি মিশরীয় প্রতিনিধি দল গাজায় যুদ্ধ থামাতে এবং বাকি জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য দেশটিতে সফর করেছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইসরায়েলের কাছে নতুন কোনো প্রস্তাব নেই, তবে তারা সীমিত যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক যেখানে হামাস ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে, পূর্বে আলোচনা করা ৪০ জনের পরিবর্তে।

বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ১৭ টি দেশ সংকটের অবসান এবং সমস্ত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য হামাসের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

তবে হামাস আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শুক্রবার জারি করা এক বিবৃতি জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের জনগণের চাহিদা এবং অধিকারকে বিবেচনা করে এমন কোনও ধারণা বা প্রস্তাবের জন্য উন্মুক্ত তারা।

এদিকে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে, ইসরায়েল শুক্রবার মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে যে তারা রাফাহতে আক্রমণের আগে হামাসের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এবং জিম্মি আলোচনাকে একটি শেষ সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

এরফলে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, তিনি যুদ্ধের অবসান এবং বাকি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার আলোচনায় নতুন গতি দেখতে পেয়েছেন।

কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী বিরতি ঘোষণা করেছিল হামাস-আইডিএফ। সেই বিরতির সময় চুক্তি অনুযায়ী ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে থেকে ১৫০ জনকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরায়েল।

ওই বিরতি শেষ হওয়ার পর গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করছে মধ্যস্থতাকারী তিন দেশ। চলতি বছর রমজান মাস থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে তা আর হয়নি।

ফলে হামাসের কব্জায় থাকা বাকি ১৩২ জন জিম্মির ভাগ্য কী ঘটেছে— এখনও অজানা।

এদিকে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণসরবরাহ বৃদ্ধির জন্য দফায় দফায় আলোচনা ও প্রস্তাব পাঠাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।

কিন্তু প্রতিটি প্রস্তাবে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং এই দাবির কারণে সেসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ইসরায়েল।