আইপিএলে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ছেন ব্যাটসম্যানরা। কাল রাতে যেমন ইডেন গার্ডেন্সে তান্ডব চালিয়েছিলেন পাঞ্জাব কিংস ব্যাটসম্যানরা। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এত রান তাড়া করে জেতেনি বিশ্বের আর কোনো দল। তাতে বাহবা পাচ্ছেন জনি বেয়ারস্টোরা। কিন্তু অসহায় আত্মসমর্পণ করা বোলারদের বাঁচানোর আকুতি শুরু হয়েছে নানা প্রান্ত থেকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন সেই অনুরোধ করেছেন। আর ক্রিকেটকে স্যাম কারানের কাছে মনে হচ্ছে বেসবল। আর সুলতান অব সুইং হিসেবে খ্যাত ওয়াসিম আকরাম তো তিনি এই যুগের বোলার না হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্রষ্টাকে।
এক পডকাস্ট আলোচনায় যুক্ত হয়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম। সেখানে তিনি স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মজা করে বলেছেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি এই যুগে ক্রিকেট খেলছি না। মানে ওরা ২০ ওভারে ২৭০ রান করছে। ৫০ ওভারের ম্যাচে ৪৫০ বা ৫০০ রানের মতো। একবার হলে ঠিক আছে, কিন্তু এরকম তিন-চারবার হয়েছে, এতেই বোঝা যায় ব্যাটিং কতটা শক্তিশালী। ৫ ওভারে ১০০ রান করা বেআইনি।’
আকরাম আইপিএলের এই আসরের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলকে ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রান তাড়ায় বিশ্বরেকর্ড গড়ার ম্যাচে ৪২টি ছক্কা দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করে নিয়েছে পাঞ্জাব। দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব সামলানো স্যাম কারেনের চোখে ক্রিকেট আর ক্রিকেটে আটকে নেই, ২২ গজের খেলাটি বেসবলে পরিণত হয়েছে।
অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতে পাঞ্জাব অধিনায়ক কারেন বলেছেন, ‘ক্রিকেট বেসবলে পরিণত হচ্ছে, তাই না? ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য ছিল। ২ পয়েন্ট পেয়ে সত্যিই আনন্দিত। এমন ম্যাচের তুলনা চলে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কয়েকটি সপ্তাহ বাজে গিয়েছিল, তবে আমরা হাল ছাড়িনি। স্কোর ভুলে যান, জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’
এসব রেকর্ড গড়ার পথে বেধড়ক পিটুনির শিকার বোলাররা। ঝরছে চার-ছক্কার বৃষ্টি। দিন দিন অসহায় হয়ে পড়া বোলারদের বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে এই স্পিনার লিখেছেন, ‘অনুগ্রহ করে কেউ বোলারদের বাঁচান।’ এর পাশেই অশ্বিন লিখেছেন ‘এসওএস’ শব্দ। ইংরেজি এই শব্দের পূর্ণ রূপ হলো- ‘সেভ আওয়ার সোলস।’ অর্থাৎ ‘আমাদের জীবন বাঁচাও।’
তবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং কোচ রায়ান টেন ডেশকাটে মনে করেন, এখানে কান্নার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যেই উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
কাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি এটিকে দুটি উপায়ে দেখতে পারেন। আপনি পিছু হটে বলতে পারেন ‘ওহ এটা অন্যায়, আমরা বোলিং মেশিন’ বা আপনি বলতে পারেন ‘আমরা একটি উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, আমরা চ্যালেঞ্জটি নিতে যাচ্ছি’। হ্যাঁ, এটা কঠিন, কিন্তু আপনাকে অন্তত আগামী চার সপ্তাহের জন্য নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে, এই মৌসুম এত দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে, তাই এটি নিয়ে কান্নাকাটি করার কোনো অর্থ নেই।’
ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বোলারদের জন্য মোটেও সহজ নয়। তারা সবকিছুতেই ভুগছে এবং ব্যাট ও বলের (লড়াইয়ে) ভারসাম্য আনতে ভবিষ্যতে এই জায়গাটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’