নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দেশের অন্যায়, অপশাসন আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। সরকার দুর্নীতি করে, চাঁদাবাজি করে, পাচার করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, সেই ভোগান্তি হয় সাধারণ জনগণের। বিভিন্ন উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলের দাম বাড়িয়ে লুটপাট হয়। প্রতিদিন প্রতিজন মানুষের জন্য নির্ধারিত বাজেট থেকে ১০০ টাকা নানা বাহানায় লুটপাট করলে তার পরিমাণ ১৭০০ কোটি টাকা। সচেতন হয়ে এর বিপক্ষে রুখে না দাঁড়াতে পারলে এই দুর্নীতি বেড়েই চলবে। আমরা তা করতে দেব না।
আজ শনিবার বিকেলে নাগরিক ঐক্য ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি একথা বলেন।
মান্না বলেন, সরকার আরও একটি নির্বাচন করে মিথ্যা ভোটখেলা দেখিয়ে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। তারা বিপদে আছে। দেশে-বিদেশে প্রশ্নের সমুখীন হয়েছে। রিজার্ভ তলানিতে পড়ে গেছে। তথাকথিত প্রধানমন্ত্রী, তার সাঙ্গরা দুর্ভিক্ষের কথা বলেছেন, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে উন্নয়নটা কী হলো, এর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।
দলের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিক ঐক্য সত্যের কথা সবসময় বলেছে, সত্যের জন্য আন্দোলন করেছে, করবে। আমরা ক্ষমতায় এলে দরিদ্র মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে মাসে ৬ কোটি দরিদ্র মানুষের প্রত্যেককে ১ হাজার করে টাকা দেব, এর আওতা বাড়বে। একজন মানুষের চিকিৎসা করতে পুরো পরিবার দরিদ্র হয়ে পথে বসে যাবে না, চিকিৎসার ব্যয় কমাব, গরিবদের ভর্তুকি, বিনা ফিতে চিকিৎসা দেব। ধনী-দরিদ্র সকলকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে, কর্মব্যবস্থা করে অগ্রসর জাতি গড়তে সকল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাব আমরা। প্রকৃতি ও পরিবেশের যে নির্বিচার ধ্বংসাত্মক রূপান্তর করা হয়েছে তার জন্য পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ করব আমরা। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, জয় আমাদের হবেই।
শেখ হাসিনা ও তার ভোটচোর সরকার পালাবে, দেশ ছাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশকে আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর করতে হলে পথে নামার তো কোনো বিকল্প নেই। নাগরিক ঐক্যের আগামীর কার্যক্রমে, আন্দোলনে ঢাকা নাগরিক ঐক্যের মহানগরের, সারা দেশের নেতাকর্মীদের আজও উদ্যোগী হতে, দেশবাসীকে আমাদের আন্দোলনে সহায়তা করতে, সুপরামর্শ দিতে, এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান তিনি।
ঈদ পুনর্মিলনী সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম এ কবীর হাসান, সাকিব আনোয়ার, দপ্তর সম্পাদক মহিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সদস্য আনিসুর রহমান খসরু, ফেরদৌসী সুমি,লাকী বেগম, সারোয়ার হোসেন, রাজ্জাক সজীব, ফিরোজ হাসান রনি, রোকেয়া ইসলাম কেয়া, এলিজা নুসরাত, সাম্য শাহ, রাশেদুল হাসান।