চাইলেও কোনো কনটেন্ট তাড়াহুড়ো করে বানাতে পারি না

ভিন্নধর্মী গল্প ও নির্মাণে তার বেশ সুনাম রয়েছে। সেইসঙ্গে আরেকটি গুণ রয়েছে, গল্পের শেষ দিকে গিয়ে একটা ছোট্ট ম্যাজিক বা চমক দেখানো, যেটাতে পুরো গল্পই যেন ঘুরে যায় চোখের পলকে। এই চমক বা টুইস্টের জন্য অনেকে তাকে ‘মি. টুইস্ট’ বলেও আখ্যায়িত করেন।বলছি জনপ্রিয় নির্মাতা ভিকি জাহেদের কথা। গত ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার ওয়েব সিরিজ ‘রুমি’। নতুন কাজ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।

‘রুমি’ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং কী ধরনের ফিডব্যাক পাচ্ছেন?

দর্শকদের কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য পেয়েছি। একটা কাজ তো সবার কাছে ভালো লাগবে না, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিছু কাজ নিয়ে আপত্তি থাকে, ‘রুমি’র ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। প্রচুর মানুষের কাছে ভালো লেগেছে আবার কিছু ভক্তদের এমন মেসেজও পেয়েছি যাদের এটা ভালো লাগেনি। এই প্রজেক্টটা আমার কাছে একটু স্পেশাল ছিল। চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, এমনকি হইচইয়ের সঙ্গেও। কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। চঞ্চল ভাই খুবই চমৎকার একজন শিল্পী, যার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, এমনকি আমি শিখেছিও। এক কথায় বলতে গেলে ‘রুমি’ ইজ অ্যান আনফরগেটেবল এক্সপেরিয়েন্স ফর মি।

শোনা যাচ্ছে, রুমি সিজন ২ আসবে। সেটা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

গল্পটা প্রথম সিজনে শেষ হয়নি। দর্শকদের অনেকের কাছ থেকেই পরবর্তী সিজনের জন্য মেসেজ পেয়েছি, যেটা দারুণ ভালো লাগার। তাদের জন্য এটুকু বলতে চাই, এটার সিজন টু করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। এটা নিয়ে প্ল্যানিং চলছে, তবে এখন এই মুহূর্তে এক্সাক্টলি বলতে পারছি না যে, কবে শুরু হচ্ছে। সিজন বেইজড কাজগুলো বাইরের দেশে যেভাবে হয়, যেমন একটা সিজন যে সময়ে রিলিজ হয় তার পরের সিজনটা পরের বছর একই সময়ে আসে। হইচইয়েরও এ রকমই পরিকল্পনা। গল্প বা কাস্টিং নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।

গত তিন মাসে আপনার তিনটি সিরিজ এসেছে। কাজগুলো নির্মাণে যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন কি বা সর্বোচ্চটা দিতে পারছেন কি?

এটা সত্যি। তবে এর মধ্যে দুটো সিরিজের শুটিংই গত বছর হয়েছে। এমন না যে প্রতি মাসেই শুটিং করেছি। কাজগুলোর রিলিজ খুব কাছাকাছি সময়ে হয়েছে, যার কারণে এমনটা মনে হতে পারে। টিকিট এবং আরারাত খুব সম্ভবত এক কিংবা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রিলিজ পেয়েছে। এটা প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্ত, এখানে আমার কিছু করার থাকে না। আমি আমার কাজগুলোতে চেষ্টা করি যথেষ্ট সময় দিয়ে করার। কারণ, আমি যে ধরনের কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করি সেগুলোর গল্প খুব স্ট্রেইটফরওয়ার্ড হয় না। সেগুলো ডেভেলপ করতে প্রচুর রিসার্চ করতে হয়। সো ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্কটা অনেক বেশি থাকে। রুমি-র কথাই যদি বলি, এখানে ছয়টা পর্বে ছয়টা স্বপ্নের দৃশ্য ছিল যেগুলো খুবই কমপ্লেক্স ছিল, এগুলো শুট করা খুব ইজি ছিল না। তাই চাইলেও আমার কোনো কনটেন্ট তাড়াহুড়ো করে বানাতে পারব না।

ঈদে আপনার একটি নাটকও আসার কথা ছিল...

হ্যাঁ, একটা কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু আনফরচুনেটলি ঈদের কয়েক দিন আগে আমি অ্যাকসিডেন্ট করি এবং আমার অ্যাংকেলের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় এবং সেটার সার্জারি করতে হয়। আমি এখনো সুস্থ নই এবং কাজ করার মতো অবস্থায় নেই। সবার কাছে দোয়া চাই।

সাম্প্রতিক সময়ে আপনি থ্রিলারেই বেশি মনযোগ দিয়েছেন। অনেক দিন রোমান্টিক কাজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন?

রোমান্টিক আমিও করতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে যে তিনটা কাজ এসেছে সেগুলো থ্রিলার হলেও তার সঙ্গে অন্য অনেক জনরার মিশ্রণও রয়েছে। টিকিটে কমেডি, স্যাটায়ার ছিল আবার আরারাত হরর ছিল। সবশেষ রুমি একটা ডিটেকটিভের একটা ফিলোসফিক্যাল জার্নি ছিল। থ্রিলার হলেও কাজগুলোতে অন্য জনরার সংমিশ্রণ ঘটাতে চেয়েছিলাম। তাই একদমই যে রোমান্টিক করছি না এমন না। ছোট পর্দায় ‘চিহ্ন’ নামে একটি নাটক করেছি, সেটা রোমান্টিক ছিল এবং সামনে রোমান্টিক কাজ আসবে।

আপনার সব নির্মাণেই মেহজাবীন চৌধুরীকে পাওয়া যায়। এটার বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

এর পেছনে অবশ্যই বিশেষ কারণ রয়েছে। তিনি চমৎকার একজন পারফরমার এবং বেশ কমফোর্টেবল ওনার সঙ্গে কাজ করে। তিনি একজন ডিরেক্টরস আর্টিস্ট। ওনার যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি ভালো সেটা হচ্ছে পরিচালকের ভিশনটাকে পর্দায় তুলে আনতে তিনি তার দুইশ ভাগ দেন। আমরা দুজন দুজনকে বেশ ভালো রিড করতে পারি, বুঝতে পারি। সেটা কথা না বললেও। উনি স্ক্রিপ্ট নিয়ে গবেষণা করে, চরিত্রের পেছনে সময় দেয়, স্টাডি করে। কোনো শিল্পী যদি পরিচালকের একটা চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে নিজের একটা আলাদা প্রস্তুতি সেট করে সেটা পরিচালকের জন্য অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট। ওনার সঙ্গে অনেক কাজ হয়েছে এবং সেগুলো জনপ্রিয়ও হয়েছে। সেদিক থেকে একজন পরিচালক অবশ্যই চাইবেন তার সঙ্গে বারবার কাজ করতে।

আপনার নির্মাণে নতুনদের পাওয়া যায় না কেন?

এটা ভুল। আমি সবসময় চেষ্টা করি নতুনদের সুযোগ দিতে। রুমি-তেও চঞ্চল ভাই, সজল ভাই, দীপা আপা ছাড়া বেশিরভাগ শিল্পীই নতুন। তাছাড়া আরারাত-এও রেহান নামে একটা নতুন ছেলেকে সুযোগ দিয়েছি যে কি না এখন বেশ জনপ্রিয়। সো, নতুনদের নিয়ে কাজ করি না, এটা ভুল।

বড় পর্দায় আফরান নিশোকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেটার সর্বশেষ আপডেট কি? কবে নাগাদ শুটিং শুরু করবেন?

সিনেমার প্রস্তুতি সবসময় বৃহৎ আকারে হয়, অনেক সময় দিতে হয়। প্রস্তুতির মধ্যেই আছি এখন। তবে এক্সাক্ট কবে শুরু করছি সেটা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।