টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের বৃত্তি পেলেন শেখ ইমতিয়াজ শিহাব। রংপুরের শিশুনিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়া ১৫ ক্রিকেটারের ভেতর একমাত্র লেগস্পিনার। সংখ্যাই বলে দেয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে পেশাদার অবকাঠামোর বাইরেও লেগস্পিনারের সংখ্যাটা কতটা প্রকট। শনিবার শুরু হয়েছে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এই পর্যায়ে হবে ৫৭টি ম্যাচ। ভবিষ্যৎ লেগস্পিনারদের খোঁজ স্কুল ক্রিকেট থেকেই শুরু হবে, স্কুল ক্রিকেটের গত মৌসুমের সেরা ক্রিকেটারদের বৃত্তি প্রদান এবং চলমান মৌসুমের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদ সুজন।
স্কুল ক্রিকেট সব সময়ই তরুণ প্রতিভার বিকাশের মঞ্চ। বিনোদ কাম্বলী আর শচীন টেন্ডুলকারের সেই ৬৬৪ রানের জুটি কিংবা ১২ বছর বয়সী সরফরাজ খানের ৪৪৯ রানের ইনিংস সবই মুম্বাইয়ের হ্যারিস শিল্ডে, যা অত্যন্ত পুরনো একটি স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। শ্রীলঙ্কায় স্কুল ক্রিকেট কখনো কখনো উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেও ছাপিয়ে যায় স্থানীয় দর্শক ও গণমাধ্যমে। শ্রীলঙ্কায় লম্বা সময় ধরে স্কুল ক্রিকেটের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার দিত বাটা, সেই বাটা স্কুল বয় ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা থেকে শুরু করে মারভান আতাপাত্তু, মুত্তিয়া মুরালিধরন হয়ে হালের চারিথ আসালাঙ্কাও। ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলারও প্রথম আলোচনায় আসেন স্কুল ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ম্যাচে ৩৪০ রানের জুটি গড়ে, যেখানে তার রান ছিল ২২৭*। বাংলাদেশেও নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট খেলেই অনেক ক্রিকেটারের উত্তরণ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিকেএসপি আর ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবই হয়ে উঠেছে জাতীয় দলে ঢোকার সিঁড়ি। তবে লেগস্পিনারের চলমান খরা দূর করতে স্কুল ক্রিকেট থেকেই উঠতি বোলারদের খুঁজে বের করতে চায় বিসিবি। এরই মধ্যে তাদের প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের শাহেদ মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে। তার বাছাই করা ৮০ জন সম্ভাবনাময় লেগস্পিনারকে নিয়ে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ট্রায়াল হবে ২ ও ৩ মে।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘লেগস্পিনার নিয়ে আমাদের একটা বাড়তি চিন্তা অবশ্যই আছে। ডেভেলপমেন্ট বিভাগে এরই মধ্যে শাহেদ মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা আমরা প্রকাশ্যে বলিওনি। ৮ মাস সে আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা অনেক লেগস্পিনারের খোঁজ পেয়েছি। এরই মধ্যে প্রতিভা অন্বেষণ করে ৮০ জনকে আমরা নির্বাচিত করেছি। শাহেদ বাংলাদেশের আনাচকানাচে গিয়েছে। খুব শিগগির আমরা লেগস্পিনারদের ট্রায়াল শুরু করব। ৮০ জনকে নিয়ে শুরু করে আমরা সেটাকে ছোট করে নিয়ে আসব।’
স্কুল ক্রিকেটের বিভাগীয় পর্যায়ে হবে মোট ৫৭টি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবে জেলা চ্যাম্পিয়নরা। এরপর ৭ বিভাগের চ্যাম্পিয়নরা অংশ নেবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য। বিসিবির অন্যতম বৃহৎ এই আসরে এবার অংশ নিচ্ছে ৩৫২ স্কুলের প্রায় ১২ হাজারের মতো ক্রিকেটার।
প্রচ- তাপপ্রবাহের মাঝে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে, এটা মেনে নিয়েই সুজন বললেন, উপায় না দেখেই এই সময়ে টুর্নামেন্টটি করতে হচ্ছে, ‘আসলে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ না হলে এ বছর থেকে টুর্নামেন্টটা মুছে যেত। আমরা চাই আরও আগে করতে, কিন্তু স্কুলগুলো স্টুডেন্টদের ছাড়তে চায় না। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকে, অভিভাবকরাও ছাড়তে চান না। এ ছাড়া যেসব মাঠে খেলা হয়, সেগুলো তো মিরপুরের মাঠের মতো না, দেখা গেল একটু বৃষ্টিতেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গেল। তবে আমাদের মেডিকেল ফ্যাসিলিটিজ বাড়িয়েছি, পানি পানের বিরতি বাড়িয়েছি। এভাবেই খেলাটা চালিয়ে নিতে হবে।’
শনিবার বিসিবির সম্মেলন কক্ষে ২০২২-২৩ মৌসুমের সেরা ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়া প্রাইম ব্যাংক কম্বাইন্ড জাতীয় স্কুল দলের ক্রিকেটারদের হাতে স্মারক ও বৃত্তির ৬০ হাজার টাকার প্রি-পেইড কার্ড তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সুজন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, প্রাইম ব্যাংকের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন সৈয়দ রায়হান তারিক।
ক্রিকেটের সঙ্গে নানাভাবেই জড়িয়ে আছে প্রাইম ব্যাংক। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তাদের একটি দল খেলে, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিও ছিল তাদের মালিকানায়। প্রায় এক দশক ধরে স্কুল ক্রিকেটেরও সঙ্গী। এই যাত্রা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে নাজিম এ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে বিসিবির উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের অনেকেই এখন জাতীয় পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। অনেকেই পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি সেরা ক্রিকেটাররা যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে কারণেই শিক্ষা বৃত্তি চালু করা হয়েছে।’