মাফরোজা আক্তার
কৃষি কর্মকর্তা, গোপালগঞ্জ
তাপপ্রবাহের হাত থেকে ফসল রক্ষায় আমরা একটি টিম গঠন করেছি। টিমের সব সদস্য ক্ষেতে গিয়ে কৃষককে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকরা সেভাবে কাজ করায় ফসল রক্ষা পাচ্ছে।
যা করবেন : আগামী কয়েক দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা ৩৫-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এমনকি বেশিও বিরাজ করতে পারে। তাই, বোরো ধান চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি কৃষকদের। এর মধ্যে হিটশক বা হিট ইনজুরি। বৃষ্টিহীন গরম ঝড়ো বাতাসে অনেক জায়গায় ফুল আসা ধান হিটশক বা হিট ইনজুরিতে পড়ে চিটা বা শিষ সাদা হয়ে যেতে পারে। বোরো ধানের যেসব জাত ফুল ফোটা পর্যায়ে আছে বা এখন ফুল ফুটছে বা সামনে ফুল ফুটবে সেসব জমিতে পানি ধরে রেখে ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে হিটশক বা হিট ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে হবে। দিনের তাপমাত্রা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি। ফুল ফোটার সময় (সকাল ৭টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) যদি ১ থেকে ২ ঘণ্টা ওই তাপমাত্রা থাকে তাহলে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রচন্ড ঝড়ো বাতাস বা গরম বাতাসে এতে ফুলের অঙ্গগুলোর গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। আবার ঝড়ো বাতাস পরাগায়ন, গর্ভধারণ ও ধানের মধ্যে চালের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এতে ধানের সবুজ খোসা খয়েরি বা কালো রঙ ধারণ করে। ফলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে। খরার কারণে শিষের শাখা বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিকৃত ও বন্ধ্যা ধানের জন্ম দেওয়ায় চিটা হয়ে যায়। প্রচন্ড গরম ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কোথাও ধান চিটা হতে দেখা গেলে হিটশক থেকে বোরো ধান রক্ষা করতে জমিতে ৫-৭ সেমি বা ২-৩ ইঞ্চি পানি কাইচ থোড় থেকে ফুল ফোটা পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, এমওপি সার ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম মিশিয়ে ৫ শতাংশ হিসেবে স্প্রে করতে হবে। অথবা বিঘাপ্রতি ৫ কেজি হিসেবে দানাদার এমওপি সার উপরি দিতে হবে। এ ছাড়া বিএলবি, ব্লাস্ট, বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সঠিক সময়ে নিতে হবে। গত ২০ এপ্রিল গোপালগঞ্জে ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে কৃষি আবহাওয়া অফিস। প্রতিদিনই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করছে। কৃষকরা সতর্ক থাকায় এখানে বোরো ধানে হিটশক বা হিট ইনজুরি হয়নি। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ দিন আগে থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করছি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ধান কৃষক ভালোভাবে গোলায় তুলতে পারবেন।