মায়ামিতে বার্সার স্মৃতি ফেরালেন মেসি

ম্যাচের আগে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন দলের কোচ বলেছিলেন মেসিতে মুগ্ধদের একাদশে রাখবেন না তিনি। বাংলাদেশ সময় গতকাল সকালে এমএলএসে ইন্টার মায়ামি-নিউ ইংল্যান্ড ম্যাচে মেসি যা করলেন, তাতে মুগ্ধ না হয়ে কি উপায় আছে! দলের চার গোলেই অবদান রাখলেন মেসি। মায়ামি জিতেছে ৪-১ গোলে।

ঘরের মাঠ জিলেট স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৬ হাজার দর্শকের সামনে নিউ ইংল্যান্ড ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল। ৪০ সেকেন্ডে গোল করেন টমাস চানকালে। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি মায়ামি। ৩২ মিনিটে রবার্ট টেলরের বাড়ানো বল থেকে মেসি সমতা আনেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে। ৬৭ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বুসকেটসের বাড়ানো বল বক্সে পেয়েই শটে জালে জড়ান মেসি। তাতে রেকর্ডেও নাম লেখান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেজর লিগ সকারে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোলে অবদান রাখলেন।

মেসি ও বুসকেটস আজকেরটিসহ একসঙ্গে ক্লাব পর্যায়ে খেললেন মোট ৫৯১ ম্যাচ। দুজন একসঙ্গে মিলে দলের গোলে অবদান রেখেছেন ২৫ বার। বুসকেটসের অ্যাসিস্টে মেসির এটি ২২তম গোল। আর মেসির অ্যাসিস্টে বুসকেটসের গোলসংখ্যা ৩।

৮৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন মেসি, আবারও বক্সে বল পেয়ে শট নেন। নিউ ইংল্যান্ড গোলকিপার তা ফিরিয়ে দিলে, ফিরতি বল জালে পাঠান বেঞ্জামিন ক্রামাশ্চি। পরের গোলেও আছে মেসির ছোঁয়া। ৮৮ মিনিটে বক্সের খানিকটা বাইরে বল পান মেসি। সামনে থাকা এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে পাস দেন বাঁ পাশে থাকা লুইস সুয়ারেজকে। চিপ শটে গোল করে স্কোর ৪-১ করেন সুয়ারেজ।

মেসি-সুয়ারেজ জুটির ক্লাবের হয়ে গোলে অবদানের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৪-এ। সুয়ারেজের অ্যাসিস্টে ৫৯ গোল করেছেন মেসি। আর মেসির অ্যাসিস্টে সুয়ারেজের গোল ৪৫টি। মেসি ও সুয়ারেজ একসঙ্গে মাঠে খেলেছেন আজকেরটিসহ ২৬৭ ম্যাচে।

মেসি পাসটি দেওয়ার সময় বক্সে ছিল নিউ ইংল্যান্ডের পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়। এই অ্যাসিস্টেও দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এমএলএসের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মৌসুমে প্রথম ৭ ম্যাচে অন্তত ১৫ (১৬) গোলে অবদান রাখলেন মেসি। এর আগে ২০১২তে থিয়েরি অঁরি এমএলএসের প্রথম ৭ ম্যাচে নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের হয়ে ১৩ গোলে অবদান রেখেছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের হয়ে কার্লোস ভেলাও ১৩ গোলে অবদান রেখেছিলেন।

চলতি মৌসুমে লিগে মেসি গোল করেছেন ৯টি, যা তাকে এরই মধ্যে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় প্রথমে বসিয়েছে। অ্যাসিস্ট করেছেন ৭টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে মেসির গোল হলো ১১টি।

মেসি রেকর্ড গড়েছেন আরও। পেনাল্টি ছাড়া তার গোল এখন ৭২৩টি। রোনালদোর ৭২১। রোনালদোর চেয়ে ১৫০ ম্যাচ কম খেলে পেনাল্টি ছাড়া গোলে আবারও এগিয়ে গেলেন মেসি।

মেসিতে মুগ্ধ হওয়ার কথা সরাসরি না বললেও তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নিউ ইংল্যান্ড কোচ কালেব পর্টার। তিনি বলেন, ‘আপনাকে ভালো করে (মেসির গোলের) দুটি মুহূর্ত দেখতে হবে। আমি মনে করি, তারা এমন সময় দুটি গোল পেয়েছে, যখন আমরা তাদের চেয়ে বেশি ভালো সুযোগ তৈরি করছিলাম। কিন্তু এটাই মেসি! সে হঠাৎ করে দুটি গোল করল আর ম্যাচটা সেখানেই...।’ মেসি ম্যাচের শুরুর দিকে খুব বেশি সময় বল পায়ে রাখেননি। তবু দুটি গোল আদায় করে নেন। মেসির এই বিশেষ গুণ নিয়ে পর্টার বলেন, ‘আমার মনে হয় না ম্যাচের শুরুর দিকে মেসি খুব একটা বল স্পর্শ করেছে। কিন্তু আমরা জানি এটিই মেসির গুণ। দুবার ডিফেন্সকে শান্ত করে দিয়ে গোল করল।’ 

এমএলএসে চলতি মৌসুমে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১১ ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্টে শীর্ষে আছে মায়ামি। ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিনসিনাটি। পরের ম্যাচে ঘরের মাঠে আগামী রবিবার মায়ামি খেলবে রেড বুলসের বিপক্ষে।