বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনে কর্মরত বাবার হাত ধরে মাত্র চার বছর বয়সে টেনিস কোর্টে এসেছিলেন মাসফিয়া আফরিন। র্যাকেট হাতে ছোটবেলাতেই দেখিয়েছিলেন প্রতিভার স্বাক্ষর। হয়েছিলেন জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খেলার প্রতি বাড়তে থাকে ভালোবাসা। খেলার পাশাপাশি তাই কোচিং ও রেফারিং শুরু করেন। সেই অনুরাগই আজ অনেক বড় স্বপ্নের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে ১৮ বছরের মাসফিয়াকে। বাংলাদেশের প্রথম রেফারি হিসেবে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) হোয়াইট ব্যাজ স্বীকৃতি।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে রবিবার শেষ হওয়া আইটিএফ হোয়াইট ব্যাজ স্কুল কোর্সে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। যার ফলে তিনি আইটিএফ এবং এশিয়ান টেনিস ফেডারেশনের স্বীকৃত অনেক টুর্নামেন্ট পরিচালনা করতে পারবেন অনায়াসে।
পুরো ব্যাপারটাই মাসফিয়ার কাছে মনে হচ্ছে স্বপ্নের মতো। রবিবার কুয়ালালামপুর থেকে ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি মাত্র চার বছর বয়সে টেনিস খেলা শুরু করি। জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলাম। গেল দুই বছর অবশ্য খেলা হচ্ছে না। তবে নিয়মিতই ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো রেফারি হিসেবে পরিচালনা করছি। ২০২২ সালের শেষ দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল অফিশিয়েটিং স্কুল কোর্স, যাকে আমরা লেভেল-১ বলি, সেটা সম্পন্ন করি। সেই পরীক্ষায় আমি প্রথম স্থান পেয়েছিলাম। এরপর থেকে রেফারিংয়ের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। আসলে লেভেল-২ বা হোয়াইট ব্যাজ অফিশিয়েটিং স্কুল কোর্স করার যোগ্যতা অর্জন করতেই অনেকের অনেক সময় লেগে যায়। আমি সেই যোগ্যতা অর্জন করেছিলাম মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতায়। আমার সঙ্গে এমন রেফারিরাও ছিলেন, যাদের অনেকে রেফারিং শুরু করেছেন ১৯৯০ সালে। আমাকে রেফারিংয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। এটা কেবল আমার স্বপ্ন পূরণ নয়, এটা দেশের জন্যও বড় একটা অর্জন। আমি হোয়াইট ব্যাজ পাওয়ায় এখন পাশের দেশ ভারত থেকে অনেক টাকা খরচ করে রেফারি আনতে হবে না।’
মেয়ের কীর্তিতে গর্বিত বাবা বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকতা মোহাম্মদ মাহমুদ আলম, ‘আমাদের মাননীয় সভাপতি (প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী) মাসফিয়ার এই কোর্সের অংশগ্রহণের সব খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন। একজন সহসভাপতি (সেলিম) তার বিমানভাড়া দিয়েছেন। এ ছাড়া সব সময় অভিভাবক হিসেবে ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার। আমি বাবা হিসেবে তাদের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। তাদের অনুপ্রেরণা না পেলে হয়তো মাসফিয়া এত দূর আসতে পারত না।’