কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বা ৪ বছরের উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী যে ডিগ্রি অর্জন করে সেটাকে স্নাতক ডিগ্রি বলা হয়। আক্ষরিকভাবে ‘স্নাতক’ শব্দটির অর্থ হল জলে স্নান বা অবগাহন করা। ইংরেজিতে এই ডিগ্রিকে বলা হয় ব্যাচেলর ডিগ্রি। কিন্তু এই ব্যাচেলর ডিগ্রির বাংলা কীভাবে স্নাতক হলো?
জানা যায়, প্রাচীন মগধে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধবিহার গড়ে ওঠে। পাল সাম্রাজ্যের সময় ভারতের পাঁচটি ‘মহাবিহার’ বিক্রমশিলা (বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়), নালন্দা (বিশ্বের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়), সোমপুর, ওদন্তপুরী ও জগদ্দল এই ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করত। সেখানে বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি দেওয়া হতো নৈতিক শিক্ষা। কিন্তু পূর্ণ শিক্ষা এবং জ্যোতির্ময় জ্ঞানার্জন ছাড়া কোনো শিষ্য নির্দিষ্ট পুকুরে ‘স্নান’ করতে পারতেন না। উপযুক্ত বিদ্যা লাভের পর গুরুদেবের সন্তুষ্টি পেলেই শিষ্যদের কেবল অনুমতি মিলত স্নানের। যে স্নান করার যোগ্যতা অর্জন করতেন, তাকেই বলা হতো স্নাতক। সেই থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রির বাংলা ‘স্নাতক’।