সড়ক দুর্ঘটনার পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে এআই

একটি কন্টেইনার জাহাজ বেশ কয়েকবার পাওয়ার লসের কারণে বাল্টিমোরে  ফ্রান্সিস স্কট কি সেতুর পিলারে ধাক্কা দেয়। আর এই ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ মার্চ। ঘটনায় প্রাণ হারায় জাহাজের নাবিকরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হয়তো এক দশক সময় লেগে যাতে পারে। এই প্রসঙ্গে আমেরিকান টেকনোলজি অ্যানালিস্ট রব এন্ডারলে বলেন,  বন্দরটি ঠিকভাবে স্বয়ংক্রিয় এবং এআই দ্বারা চালিত হলে এই বিপর্যয়টি এড়ানো যেত। এই ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধে এআই টুলস বেশি কার্যকরী হতো। তবে বিপর্যয়ের সমস্যাটি দেখা দিয়েছে নাবিকদের সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে। তারা জানত না এমন পরিস্থিতিতে পাওয়ারের সমস্যা হলে কী করা উচিত। তারা ঠিক সময় পোর্ট অথরিটিকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করতে পারেনি যার ফলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এমন পরিস্থিতে এআই-এর কাজ হচ্ছে দ্রুত মনিটরিং স্টেশনে বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে জাহাজকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা। কিন্তু এধরনের পোর্টগুলোতে সাধারণত রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের জন্য এয়ার স্টেশন পরিচালনার মতো স্টাফ থাকে না। সুতরাং ডাটা আদান প্রদান করে বিপর্যয় ঠেকাতে দরকার হবে মাল্টিপল এআই টুলস। আর এই প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ  অটোমেটেড এআই দ্বারা অর্থাৎ রোবোটিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমগুলো এমন ক্রিয়াকলাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। বিবেচনায় নিলে একটি কন্টেইনার জাহাজের দাম ৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হয়। জাহাজটি কাস্টম জেনারেটিভ এআই দ্বারা চালাতে আরও প্রয়োজন হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। যাতে কখনো এ ধরনের কোনো বিপর্যয় না ঘটে। কারণ এমন দুর্ঘটনার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দায় বহন করতে হবে।

রব এন্ডারলে আরও বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিতভাবে সব ধরনের যানবাহন চালানোর জন্য এআই তৈরি হচ্ছে। আইবিএম জাহাজে এআই অটোমেশন পরীক্ষা করছে এবং সেলফ ড্রাইভিং বাস্তবায়নে টয়োটা তাদের গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল প্রজেক্টে কাজ করছে। গার্ডিয়ান এঞ্জেল মডেলের গাড়ি হবে সম্পূর্ণ সেলফ অটোমেটেড। একজন চালক সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত নাও থাকতে পারেন কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই বিষয়ে আরও বেশি সচেতন ও মনোযোগী।’

সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি কতটা নিরাপদ

এআই দ্বারা গাড়িতে ক্যামেরা ব্যবহার করে দুর্ঘটনা ৬৫% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। কিন্তু এআই ফলস অ্যালার্মের কারণে একবার কোনো ভুল করলে সেটি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বিশ্বের অনেক জায়গায় এখন সেলফ ড্রাইভিং কার ব্যবহার করা হয় কিন্তু তারপরেও সেটিকে সহযোগিতা করার জন্য আরেকজনকে প্রয়োজন হয়।  লেভেল ২-এর সেলফ ড্রাইভিং কারগুলো এখনো সব পরিস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার মতো পরিপক্ব নয়।

এআই যানবাহনে কীভাবে ব্যবহার হবে?

দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অনেক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। ড্রাইভিং সতর্কতা মেনে চলতে সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম হচ্ছে রাস্তার দিকে মনোযোগ দেওয়া অর্থাৎ মানুষ যেখানে পারছে না সেখানেই এআই-এর আগমন। নির্দিষ্ট গতিসীমার ওপরে গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভার ক্রমাগত নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলে এআই ড্যাশ ক্যামের মাধ্যমে ড্রাইভারকে সতর্ক করতে পারে। সেলফোন ব্যবহার, ধূমপান, খাওয়া বা বিভিন্ন অমনোযোগিতার কারণে সতর্ক করিয়ে দেয়। এআই রিয়েল-টাইম কোচিংয়েও সহায়তা করতে পারে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রিয়েল-টাইম শনাক্তকরণের মাধ্যমে ড্রাইভারকে সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারে।

যদি যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে এআই দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করতে পারে। রুট অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে চালককে সবচেয়ে নিরাপদ এবং দ্রুত রুটের পরামর্শ দিতে ট্রাফিক প্যাটার্ন, আবহাওয়া, রাস্তার অবস্থা এবং অন্যান্য পুরনো দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে।