সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের বৃ-হাতকোড়া গুচ্ছগ্রামের দিনমজুর জামাত আলী ফকিরের (৬০) ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ মে) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত জামাত আলী ফকির গালা ইউনিয়নের বায়রা গ্রামের মৃত কোবাদ আলী ফকিরের ছেলে।
এলাকাবাসি জানায়, ৭-৮ বছর আগে দিনমজুর জামাত আলী ফকিরকে রেখে স্ত্রী-সন্তান চলে যায়। এরপর থেকে মাকে নিয়ে যমুনার চরের বৃ-হাতকোড়া গুচ্ছগ্রামের একটি ছোট্ট ঘরে তিনি বসবাস করতেন। গত শনিবার বৃ-হাতকোড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হানিফ ও সাহেব আলী নামের দুই দিনমজুর কাজের কথা বলে জামাত আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে পরিবারের লোকজনকে জানতে পারেন, জামাত আলীর ক্ষতবিক্ষত লাশ বৃ-হাতকোড়া যমুনা নদীপাড়ে পড়ে আছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ওইদিন রাতে তার লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বায়রা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়।
আজ বুধবার সকালে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ বায়রা গ্রাম থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত জামাত আলীর বৃদ্ধা মা কমেলা খাতুন, ভাই আশরাফ আলী ফকির ও আজাদ ফকির জানায়, মানসিক ভারসাম্যহীন সহজ সরল জামাত আলী দিনমজুরি ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘোল বিক্রি করতেন। তা দিয়ে যা আয় হতো তাতেই সংসার চলতো। বাকি টাকা তিনি সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা হাতিয়ে নিতে বৃ-হাতকোড়া গুচ্ছগ্রামের হানিফ ও সাহেব আলী তাকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ যমুনা নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে ওই দুইজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাশার জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।