রুম যেন ‘ফুটন্ত কড়াই’, টপ ফ্লোরের ব্যাচেলরদের ঘুম হারাম

দেশজুড়ে চলমান দাবদাহের প্রভাব পড়েছে মানুষের জনজীবনে। গরম থেকে বাঁচতে মানুষ এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায়। দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হয়নি। বিশেষ করে কনক্রিটের নগরী ঢাকা এই গরমে ফুটন্ত কড়াইতে রূপ নিয়েছে।

এই গরম নিম্নআয়ের ও ব্যাচেলরচের জীবনকে করেছে আরও দুর্বিষহ। রাজধানীতে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক অনেকেই বাসার টপ ফ্লোর (চিলেকোঠায়) থাকেন। এই চিলেকোঠাগুলোর অধিকাংশই ওপরে টিন দেওয়া। ভাড়া কম হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বা ব্যাচেলর চাকরিজীবীরা এই রুমগুলোতে ভাড়া থাকেন। এই গরম টপ ফ্লোরে থাকা মানুষগুলোর জীবনের শান্তির ঘুম হারাম করেছে। কারণ বাসার ছাদে রুম হওয়ায় সূর্যের তাপ সরাসরি প্রবেশ করে। তাই গভীর রাত অবধি রুম গরম থাকে।

রাজধানীর ইস্কাটন রোডের ছয়তলায় বাসার ছাদের চিলেকোঠায় থাকেন চাকরিপ্রত্যাশী মো. সাইফুল ইসলাম। টপ ফ্লোরের ওই রুমে তিনিসহ আরও দু’জন থাকেন। তাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই গরমে আমাদের রুমগুলোকে মনে হয় ফুটন্ত কড়াই। দিনের বেলা রুমে থাকাই কষ্টকর হয়ে যায়। ফ্যানের বাতাসও গরম অনুভূত হয়। তাই ভালমতো ঘুমও হচ্ছে না। পড়াশোনায় ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।’

তারা আরও বলেন, ‘গরম যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের কষ্ট করতে হবে। গরমে গভীর রাত অবধি আমরা জেগে থাকি। এই গরম আমাদের ঘুম হারাম করেছে।’

শিক্ষার্থীদের মতো ব্যাচেলর চাকরিজীবীরা আরও ভোগান্তিতে পড়েছে। কারণ অনেকে দিনের কয়েক ঘণ্টা অফিসে কাটান। তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে থাকলেও বাসায় এসে কষ্ট বেড়ে যায়। এমন অভিজ্ঞতার কথা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ওমর আলী। তিনি বলেন, অফিসে যতক্ষণ থাকি, শান্তিতেই থাকি। কিন্তু বাসায় আসলেই গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফ্যান দিয়েও গরম কমানো যায় না। তাই রাতে বাধ্য হয়ে ছাদে বসে আড্ডা দিতে হয়। গভীর রাতে কিছুটা গরম কমলে ঘুমাতে যাই।’

এই গরমে তাদের থেকেও দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে দিনমজুরদের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দিনমজুররা কাজের জন্য রাজধানীতে আসেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকার বস্তি কিংবা টিনশেডের কিছু বাসায় থাকেন। এই গরম আয় কমানোর পাশাপাশি ঘুম কমিয়েছে বলে জানান তারা।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে থাকেন রিকশাচালক রহিম মিয়া। গত একমাস যাবৎ তিনি ফার্মগেট এলাকায় রিকশা চালান। রাত হলেই টিনশেডের একটি রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয় তাকে। অন্য সময় একসঙ্গে অনেকজন ঘুমালে সমস্যা না হলেও গরম তাদের জীবনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। 

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলমান গরমে আয় আগের থেকে কমেছে। কারণ গরমে রাতে ঘুম কম হয়। তাই দিনের বেলা কিছু ভাড়া মারতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমনকি অনেকের জ্বর-সর্দিও হচ্ছে। কারণ রিকশা চালানোর সময় শরীর ঘামে ভিজে যায়। সেই ঘাম আবার রোদে শুকিয়েও যায়। তাই প্রত্যাশা করি এই আবহাওয়া খুব শ্রীঘ্রই শীতল হবে। স্বস্তি ফিরবে জনজীবনে।’