গরমেও থেমে নেই গৃহিণীদের লড়াই

আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম

দেশজুড়ে চলছে দাবদাহ। তাপপ্রবাহের এ সময়ে মানুষের জনজীবনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। গরম উপেক্ষা করে যাদের দৈনন্দিন কাজে যেতে হয়। তাদের কষ্টের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই গরমে গৃহিণী বা নারীদের কষ্টের কথা আমরা কতজন বিবেচনা করি? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। 

কারণ প্রচণ্ড গরমেও বাসা বাড়িতে গৃহিণী বা নারীদের রান্নার কাজ থেমে নেই। রান্নাঘরের উত্তাপকে সঙ্গী করেই কঠিন এই কাজটি প্রতিনিয়ত করছেন গৃহিণীরা। বিশেষ করে ঢাকা শহরে গৃহিণীদের রান্নার কাজটি বেশ কঠিন। কারণ ঢাকা শহরের অধিকাংশ বাসার রান্নাঘর খুবই ছোট। নেই বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত সুবিধা। ফলে গরমকে সঙ্গী করেই রোজ গৃহিণীদের রান্নার কাজটি করতে হয়। তবে এই গরমে গৃহিণীদের সুবিধার্থে অনেকেই রান্নাঘরে ফ্যানের ব্যবস্থা করছেন। কেউ আবার রান্না করার সময়ও পরিবর্তন করে নিয়েছেন। অনেকে আবার রান্না করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ঢাকার ইস্কাটন রোডের রাজিয়া নামের এক গৃহিণী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গরম হলেও রোজ আমাদের রান্নাঘরে যেতেই হয়। এবছর গরম বেশি হওয়ায় আমাদের কষ্ট কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের জন্য এই কষ্ট করাই যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সকাল সকাল রান্নার কাজ শেষ করি। যতটুকু পারছি শাক-সবজি ও স্বাস্থ্যসম্মত কিছু রান্না করি। দু’দিন ধরে রান্না করার সময় একটি টেবিল ফ্যান রান্নাঘরে নিয়ে আসি। এতে কিছুটা হলেও গরম কম অনুভব হয়।’ 

এদিকে গৃহিণীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে অনেকে রান্নাঘরে বিকল্প ব্যবস্থা করছেন। মিরপুর-১৩ তন্ময় রহমানের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গরমের কথা চিন্তা করে আমি আমার স্ত্রীকে একটা নেক ফ্যান কিনে দিয়েছি। যাতে রান্নাঘরে কাজ করার সময় কিছুটা স্বস্থিতে থাকতে পারে। সকল পুরুষদের উচিত নিজের স্ত্রী, মা বা গৃহকর্মীদের জন্য রান্নাঘরে ফ্যান বা এরকম ব্যবস্থা করা। ’

তবে গৃহিণীদের থেকেও এই গরমে বেশি কষ্টে রান্না করেন গৃহকর্মীরা। ঢাকা শহরের অনেক গৃহকর্মী আছেন যারা জীবিকার তাগিতে একই দিনে কয়েক বাসা বা মেসে কাজ করেন। যাদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তাদের অনেককেই ১০ বা তারও অধিক মানুষের রান্না করেন। এই গরমে তাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। কারণ তারা গৃহকর্মী। 
 
বিষয়টি নিয়ে ইস্কাটন রোডের একটি মেসে কাজ করেন এমন একজনের সঙ্গে কথা দেশ রূপান্তরের। তিনি বলেন, মামা আমি ভোর বেলা উঠেই একটি ছাত্রী মেসে রান্না করি। তখন কিছুটা তাপ কম থাকে। কিন্তু এখন দুপুর বেলা এই মেসে রান্না করছি। এই গরমে রান্না করতে খুবই কষ্ট হয়। তাই এই ম্যাচের মামারা আজ রান্নাঘরে ফ্যান দিয়েছেন। এতে কষ্ট কিছুটা কমেছে। তবে অন্য মেসে এরকম সুবিধা পাওয়া যায় না ।’

এ বিষয়ে ফার্মগেট এলাকায় একটি ছাত্র মাসে রান্নার কাজ করেন আকবার আলী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন ৩ বার ২০জন ছাত্রের রান্না করতে হয়। এই গরমে রান্না করতে গিয়ে শরীর পুরো ভিজে যায়। কারণ রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আশা করি এই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে, সঙ্গে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।’

এ বিষয়ে  জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এই গরমে রান্নার কাজটি সকাল ১০টার আগে এবং বিকেল ৫টার পর করা উচিত। মাংস এবং কষানো টাইপের রান্না এসময় না করাই ভালো। কারণ এসব রান্না সময় নিয়ে করতে হয়। বেশি ভালো হয় রান্নাঘরে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা করা।’ 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত