ঘরের ভেতর ঝুলছিল নারীর পচন ধরা মরদেহ 

গাজীপুরের শ্রীপুরে বদ্ধ ঘর থেকে অর্ধ গলিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ সিলিংয়ের ওপর দিয়ে ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করে।

রবিবার (৫ মে) দুপুরে মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তর পাড়া এলাকার সামসুদ্দিন খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই নারীর নাম আসমা আক্তার (২৫)। তিনি ওই গ্রামের সামসুদ্দিনের মেয়ে। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকেই বাবার বাড়িতে থাকতেন আসমা আক্তার। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনদের ধারণা মানসিক চাপ সইতে না পেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ডির্ভোসের পর থেকেই তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

নিহতের স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে আসমা ও তার স্বামীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আসমা আক্তার চরমভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সময় অসময় বাড়ির সবার সাথে ছোটখাট বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। চার পাঁচদিন আগেও তার মা ও ভাইদের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এর পর রাগ করে ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সবার ধারণা তিনি রাগ ভাঙলে বের হবে। এ দিকে সবাই অন্য ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়লে তার কথা কেউ মনে রাখেনি। সবাই মনে করেছে তিনি বাড়ির বাইরে কোথাও গেছেন। আজ ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সবাই টের পায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘরের সিলিংয়ের ওপর দিয়ে লোক পাঠিয়ে ঘরের দরজা খুলেন।

মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীম মৃধা জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দরজা বন্ধ ঘর থেকে নারীর অর্ধপচা মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, স্বামীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে ওই নারী বেশ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

শ্রীপুর মডেল থানাও এসআই কবির হোসেন মোল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা বন্ধ একটি ঘরের ভেতর থেকে অর্ধ পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি দাবি করেন অন্তত ৫/৬ দিন আগে ওই নারী গলায় দড়ি দিয়ে আড়ার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।