তখনও ১৮ বলে ১৮ রানের প্রয়োজন বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা তখন বল তুলে দিলেন রিচার্ড এনগারাভার হাতে। প্রথম বলেই কব্জির মোচড়ে ঘুরিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকালেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গ্যালারিতে বল লেগে লাফ দিয়ে সেটা চলে যায় স্টেডিয়ামের বাইরে। স্ক্রিনে তখন ভেসে উঠে ছক্কাটা ১০৩ মিটারের। তাতেই কমে আসে ব্যবধান, বলা যায় জয়ে পথ প্রশস্ত হয়ে যায় এই ছক্কাতেই।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ম্যাচ। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মুজারাবানিকে চার মেরে স্বাগতিকদের ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন রিয়াদ। বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দুইবার। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন লিটন দাস ও তানজিদ তামিম। তামিম ফিরে গেলে ভাঙে জুটি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও থিতু হতে পারেননি। লিটনও ফিরে গেছেন ২৫ বলে ২৩ রান করে। জাকের আলি অনিকও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।
এরইমাঝে দুইবার মাঠে আঘাত হানে বৃষ্টি। প্রথম দফায় ডিএল নিয়মে বাংলাদেশ ৬ রানে এগিয়ে ছিল। তবে পরের দফায় পিছিয়ে ছিল ৩ রানে।
পরে মাহমুদউল্লাহ ও হৃদয়ের পঞ্চম উইকেটে ২৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটি হয়ে যায় দ্বিতীয় ম্যাচের জয়ের ‘নিউক্লিয়াস।’ এই জুটিতে মাহমুদউল্লাহর অবদান ১৬ বলে ২৬। ১ ছক্কা ও ২ চারে অপরাজিত ইনিংসটি সাজান তিনি। হৃদয় ১৩ বলে ২১। ২ ছক্কা ও ৩ চারে ২৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
ছোট ছোট চারটি জুটি বাংলাদেশের এই জয়ে ভূমিকা রেখেছে। ওপেনিংয়ে ৩৫ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েন লিটন ও তানজিদ। দ্বিতীয় উইকেটে লিটন ও নাজমুল ২২ বলে ২০ রানের জুটি গড়েন। চতুর্থ উইকেটে ২৩ বলে ৩১ রানের জুটি গড়েন জাকের ও হৃদয়। এরপর পঞ্চম উইকেটে পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই জুটিতে ম্যাচই জেতালেন হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ।