জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরার আবহাওয়াতেও এসেছে পরিবর্তন। সাতক্ষীরার আমচাষি ও ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, অতি গরমের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছেন জেলার আমচাষিরা। সুলতানপুর, চাঁদপুর, ফিংড়ি, ধুলিহর, বুধহাটাসহ অন্তত দশটি বড় বাগানে এবার আমের ফলন চল্লিশ ভাগও হয়নি। তার মধ্যে গরমের নানা রোগ ফলনকে করেছে বাধাগ্রস্ত। জেলার আশাশুনি উপজেলার আমচাষি খায়রুল ইসলাম, আবু রায়হান, রেজাউল ইসলাম জানালেন তাদের বাগানে শুয়োপোকার মড়কে তারা আমের কোনো ফলনের মুখ দেখেনি। তারা সর্বস্বান্ত।
সাতক্ষীরার সব থেকে বড় পাইকারি আমের হাট বেলতলা বাজারে যে পরিমাণ আম দেখা যেত এবার তার অর্ধেকও দেখা যাচ্ছে না। আম ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, গুণগত কারণে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা বিদেশের বাজারে যতটা ঠিক ততটাই দেশের বাজারে। কিন্তু তার বেলতলা হাটে এখনো আসেনি ভালো আম। প্রশাসনিক তৎপরতা অনেক বেশি। কোনো ধরনের অপুষ্ট আম বাজারে তোলার চেষ্টা করলেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হচ্ছে কঠিন শাস্তি।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, হিটওয়েভের ফলে এ জেলায় এবার আমের ফলন বিগত যে কোনো বছরের তুলনায় কম হয়েছে। এমনিতে অফ সিজন, তার ওপর হিটওয়েভে নষ্ট হয়েছে আমের ফলন। এ বছর ৪ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু গরমের মধ্যে কখনই সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আম গাছে পানি না দেওয়ার যে নির্দেশনা রয়েছে তা আমচাষিরা যথাযথভাবে না মানার কারণে আমে সকালে-বিকেলে পানি দেওয়ায় আম নষ্ট হয়েছে। সিদ্ধ বা শুকিয়ে নষ্ট হয়েছে। এই হিটওয়েভে আম গাছে পানি দেওয়ার কেবল উপযুক্ত সময় মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত। এদিকে সাতক্ষীরায় সেভাবে লিচুর বাগান নেই । যা আছে গৃহস্থের বাড়িতে। সেই লিচুই কমবেশি বাজারে বিক্রি করা হয় । কিন্তু এবার শীতকালে অতিশীতে যথাযথ পরাগায়ন না হওয়ায় আমের থেকে লিচুতে ও পড়েছে কয়েকগুণ বেশি নেতিবাচক প্রভাব।