ফেনীতে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফেনীতে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। সারাদিন আকাশ মেঘলা ছিল। রাতেও বৃষ্টি বা কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল অংশে মহাসড়কের পাশের কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। মহাসড়কের এ অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রথমে স্থানীয়রা ও পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে মহাসড়ক থেকে গাছ কেটে সড়ানোর পর সড়কে চলাচল স্বাভাবিক হয়। ফেনী কম্পিউটার ইন্সটিটিউটের সামনে সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় ফেনীর সাথে ছাগলনাইয়ার সড়ক যোগাযোগ প্রায় দুই ঘন্টা বন্ধ ছিল।

এদিকে গত কয়েক দিনের গরমের পর বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষক।

পরশুরাম উপজেলার বীরচন্দ্র নগর গ্রামের কৃষক আজহারুল হক বলেন, মাঠের বোরো ধান ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বৃষ্টি চিন্তায় ফেলেছে। ভালো ফলন হলেও ফসল বাড়ি আনতে পারব কিনা জানি না। বৃষ্টিতে এখনই জমিতে পানি জমে গেছে। বাতাস হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একরাম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে ফেনীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। মাঠে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি ধান পেকে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার হাত থেকে ফসল রক্ষায় জমির ধান ৮৫ শতাংশ পাকার সঙ্গে সঙ্গেই কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাতাস ও বৃষ্টি স্থায়ী না হলে আশা করি কৃষকের খুব বেশি ক্ষতি হবে না।

জেলার বেশিরভাগ জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার ফজলুর রহমান।

তিনি জানান, গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের তারে পড়ায় জেলা শহরসহ সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সব জায়গায় গাছপালা অপসারিত হওয়ার পরই বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার জানান, ফায়ার সার্ভিসের সব টিম একযোগে মাঠে কাজ করেছে। সড়ক থেকে গাছ অপসারণ করা হচ্ছে।