রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের ভেতরের গেট লাগিয়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ মে) দুপুর ১টা থেকে বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ ও নিজেদের পরীক্ষা নিয়ে সেশনজটের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করতে থাকেন।
আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীরা ভিসির সঙ্গে দেখা করার আবেদনও জানান। তবে বিকেল ৫টা পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে আসেননি। ফলে প্রশাসনিক ভবনের দুই ফটক লাগিয়ে আন্দোলন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ৫টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বের হতে চাইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন- উপাচার্য এসে কথা বললে তারা চলে যাবেন। পরে ৬টার দিকে উপাচার্য এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে একত্রিত হয়ে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা ও সকল ধরনের কার্যক্রম বর্জন করেন। তারা বলেন, যতদিন পর্যন্ত এ সমস্যার সঠিক সমাধান হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এ সিদ্ধান্ত চলবে।
জানা যায়, মার্চ মাসের ১০ তারিখ সাবেক বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধান নেই বিভাগটিতে। এজন্য ক্লাস ও কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট শেষ হলেও ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে নানাবিধ সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের।
আরো জানা যায়, বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধানকে না দিয়ে আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতা ভেঙে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহারকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরে তিনি অপারগতা জানালে পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক সারোয়ার আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. রহমতুল্লাহকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিলে তারাও অপারগতা জানান। ফলে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের জটিলতা আরো তীব্র হয় এবং প্রায় দু-মাসে পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া একই বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাহামুদুল হকের করা গত ১৪ মার্চ ২০২২ এ হাইকোর্টের রিট মামলার জারিকৃত রুলের প্রেক্ষিতে এবং মাহামুদুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউজিসি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে এটিকে কারণ দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে জটিলতার বিষয় হিসেবে দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা প্রায় দুই মাস ধরে এভাবে বিভাগীয় প্রধান ছাড়া দুর্ভোগে পড়ছি। এখানে থাকা-খাওয়ার আলাদা খরচ হচ্ছে, কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে উপাচার্য কথাও বলছেন না, সমাধানও দিচ্ছেন না।
বিভাগের ৪র্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ব্যাচমেটরা এবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে দিয়েছে। আমরা কবে পড়ালেখা শেষ করে আবেদন করতে পারব সেটাও জানি না। গত ১৫ এপ্রিল থেকে আমাদের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ ছিল, সেখানে মাস পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না।
বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবিকে তারা মেনে নিচ্ছে না। বিভাগীয় প্রধান না দিয়ে বরং তালবাহানা করছে। তাই যতদিন এই সমস্যার সমাধান না হয় আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, এই সমস্যা মূলত আইনি জটিলতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এক সপ্তাহ সময় নিচ্ছি। আগামী রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান আসবে।