জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ বাংলাদেশ জিতলেও ব্যাটিংটা সন্তোষজনক হয়নি। কাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে এসে এমন শঙ্কার কথাই বলেছেন বিসিবি সভাপতি ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলছে ঠিক পথেই।
প্রচন্ড গরম এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগ পর্বটাকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আয়োজন করা যেতে পারত এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বিসিবি সভাপতি বললেন, ‘এমনটা করা সম্ভব নয়, আমি কি সুপার লিগটা হঠাৎ করে লিস্ট এ টুর্নামেন্টকে টি-টোয়েন্টি করে দিতে পারি। এটা কি ইচ্ছামতো করা যায়; মানে এটা তো সুযোগই নাই। নম্বর টু জিম্বাবুয়ে, জিম্বাবুয়ের এটা তো আগে এফটিপি করা। এখানে তো...আমি বুঝতে পারছি না যে এগুলো...। আমার মনে হচ্ছে, আমি যেটা বললাম, এই যে আপনারা এখন এটা নিয়ে কথা বলছেন, প্রশ্ন করছেন, এটার জন্যই ও বলে গেছে। যদি তা-ই হত...ও তো টি-টোয়েন্টিও খেলতে পারে (জাতীয় দলের হয়ে), ওয়ানডেও খেলতে পারে (ডিপিএল), ও তো ওয়ানডেকেই বেছে নিয়েছে বিশ^কাপের আগে। আমার মনে হয় দুষ্টামি করেছে আপনাদের সাথে।’
তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিংটা যে মনমতো হয়নি, সেটা প্রকাশ্যেই বলেছেন বিসিবির প্রধান, ‘আমরা দুটো ম্যাচ কনভিন্সিংলি জিতেছি, এটা যেমন সত্যি, ব্যাটিংটা ভালো লাগে নাই। ব্যাটিং দেখে খুবই ভয় লাগছে। আমি মনে করি, আমার যে ধারণা ছিল তার চেয়ে ভালো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে খেলাটা হচ্ছে সিরিজ দুটো ম্যাচ দেখেছি বোলিং কিন্তু ভালো করেছে। সাইফউদ্দিন এত দিন পর এসে যেভাবে বল করেছে, শেখ মাহেদি যেভাবে বল করেছে, তাসকিন তো এক্কেবারে মনে হচ্ছে যে বিধ্বংসী মনে হয়েছে। আমাদের মোস্তাফিজ আইপিএলে খুব ভালো খেলে এসেছে। হৃদয় হৃদয়...না বললেই আবার খারাপ হয়ে যাবে। মানে ওর এখনো অনেক শেখার আছে।’ জিম্বাবুয়ে সিরিজের সঙ্গে সমান্তরালে আইপিএল চলছে বলেই পার্থক্যটা বেশি চোখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন নাজমুল, ‘আসলে সমস্যাটা হয়েছে কি সাথে সাথে আবার আইপিএল চলতেছে। এইবারের আইপিএল দেখে, মানে কিছু বুঝতে পারছি না হচ্ছেটা কী। মানে ২৫০-৬০ করলেও জিততে পারে না। আর আমরা কী করছি, আমরা ২৪০-৪৫ (১৪০-৪৫) করতেই হিমশিম খাচ্ছি বলে মনে হয়। আসলে হিমশিম খাই নাই। বাট মনে হয় কেমন জানি একটা... ওরা যেভাবে খেলছে, এই খেলার সাথে একটা বিরাট গ্যাপ। এই গ্যাপটা কিন্তু গতবারও মনে হয় নাই। এক বছর আগেও এমন মনে হয়নি যতটা গ্যাপ মনে হচ্ছে। সো, চ্যালেঞ্জেস আর দেয়ার।’ ব্যাটসম্যানদের খেলার ধাঁচেও সন্তুষ্ট নন নাজমুল, ‘টি-টোয়েন্টি খেলতে হলে এখন সাহস করেই খেলতে হবে। এখন আর রান হলো কি হলো না, ফর্ম আছে কি নাই এসব চিন্তা করে লাভ নাই। খেলতে হবে হাত খুলে। না হলে ইনিশিয়ালি বড় রান করাটা কঠিন।’
সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েও ব্যাটিংয়ের এমন বেহাল দশা যে বোর্ড সভাপতির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, সেটা স্পষ্ট। তবে এর যে চটজলদি কোনো সমাধানও নেই, সেটাও পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছেন নাজমুল হাসান।