মার্ক্সের জন্মদিনে বিদায় ‘বামপন্থি ফুটবল’ গুরুর

কার্ল মার্ক্সের জন্মদিনে মারা গেলেন সিজার লুইস মেনোত্তি। দাড়িওয়ালা, গাঁট্টাগোট্টা, খেলাধুলা নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকা মার্ক্সের বিপরীতই বলা চলে সদা ক্লিন শেভড, চেইন স্মোকার, ফুটবল দুনিয়াকে বদলে দেওয়া আর্জেন্টাইন মেনোত্তিকে। আর এতটাই লিকলিকে ছিলেন যে ওকে ডাকা হতো এল ফ্লাকো বা ‘চিকন’ মানুষ বলে।

এতটা অমিল হলেও, মেনোত্তি অবশ্য ছিলেন মার্ক্সের দর্শনের ভক্ত, সমাজতন্ত্রকে মানতেন মানবমুক্তির পথ হিসেবে, এমনকি ফুটবলের সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মাতোয়ারা এই শিল্পী ভাবতেন, মানবজীবনের এই অনিন্দ্য আনন্দধারার সঠিক দিকনির্দেশনাও তাই। ‘ফুটবল দুই রকমের ডানপন্থি ফুটবল আর বামপন্থি ফুটবল’ বলতেন মেনোত্তি।  ‘ডানপন্থি ফুটবল আমাদের বোঝাতে চায় যে জীবন খুব কষ্টকর। চায় ত্যাগ আর তিতিক্ষা। এই পদ্ধতি চায় আমরা যাতে যন্ত্র হয়ে পড়ি আর যে কোনো মূল্যেই জিতি। ডানপন্থি ফুটবলের মূলমন্ত্র হচ্ছে আনুগত্য আর নিষ্ঠা, ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের ভক্তি।’

আর মেনোত্তির ধারার ফুটবল হচ্ছে নিজে আনন্দ পাওয়া, দর্শককে আনন্দ দেওয়া, মাঠের এগারোজন আর গোটা গ্যালারির দর্শকদের এক অদ্ভুত আনন্দের নাগরদোলায় চেপে জীবনের জয়গান গাওয়া। সেখানে জয় ব্যাপারটা নেহাতই একটা ফলাফলের মতো।

অথচ, এই মেনোত্তিই ছিলেন চ্যাম্পিয়ন। আর্জেন্টিনার বহু যুগের আফসোস মিটিয়ে ফুটবলপাগল দেশটাকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন রোজারিওতে জন্ম নেওয়া এই কোচ। সেই রোজারিও, যেখানে জন্মেছিলেন ফুটবল জাদুকর মেসি, যদিও ফুটবলের ইতিহাসকে নতুন করে লেখা মেনোত্তির অন্যতম এক অধ্যায় ছিল ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনাকে বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

ম্যারাডোনার আলাপে পরে আসছি, ফুটবলকে বামপন্থি আর ডানপন্থি ভাগে ভাগ করলেও মেনোত্তিকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল এক জটিল জীবন জিজ্ঞাসার। আর্জেন্টিনায় রাজনীতির এক টালমাটাল অবস্থায় ক্ষমতায় আরোহণ করেন সামরিক স্বৈরশাসক হোর্হে রাফায়েল ভিদেলা।

(লেখার পুরোটা পড়ুন দেশ রূপান্তর অনলাইনে)