এবার রাফাহ ক্রসিং দখলে নিল ইসরায়েল

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহ ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। উক্ত অংশে সামরিক অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেব একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানান ওই কর্মকর্তা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

ইসরায়েলের সামরিক ওই কর্মকর্তা জানান, "রাফাহ ক্রসিং এলাকার অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে আছে এবং সেখানে আমাদের বিশেষ বাহিনী রয়েছে। আমাদের বিশেষ বাহিনী ক্রসিং স্ক্যান করছে। আগামী কয়েক ঘন্টায় এটা ঘটবে।“

তবে ইসরায়েলি সৈন্যরা কতক্ষণ এই ক্রসিং দখলে রাখবে তা জানাতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তাদের একটি ট্যাংক ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করছে। এলাকাটির দখল নেওয়া ওই ট্যাংক থেকে ইসরায়েলি পতাকা উড়তেও দেখা যায়।

এর আগে, একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছিলেন যে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলি ফিলিস্তিনিদের অংশটি দখল করার পরে ক্রসিংয়ের সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত রাফা ক্রসিংয়ের একপাশে গাজা, অন্যপাশে মিসরের সিনাই উপদ্বীপ। এই সীমান্তপথটিকে গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘লাইফ লাইন’ বলে বিবেচনা করা হয় কারণ এই সীমান্তপথ দিয়েই খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানিসহ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর সরবরাহ প্রবেশ করত গাজায়।

তবে ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সীমান্তপথটি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। মাঝে মাঝে ত্রাণের গাড়ি প্রবেশের জন্য খুললেও গত ৭ মাসের অধিকাংশ সময় বন্ধই থেকেছে রাফাহ ক্রসিং।

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ মঙ্গলবার সতর্ক করেছে যে রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ ইসরায়েলি সৈন্যদের দখলে যাওয়ার ফলে গাজায় মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে যেতে পারে।

সংস্থাটি বলছে, ‘গাজায় ত্রাণ সরবরাহের সব রাস্তা ব্যাহত হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির তৈরি হবে। বিশেষ করে উত্তর গাজায় মানুষ যে বিপর্যয়কর ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছে তা আরও খারাপ হবে।‘

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সোমবার জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। তবে ইসরায়েল বলেছে, প্রস্তাবটি তাদের শর্তগুলো পূরণ করেনি। এরপরই নতুন করে রাফাহ শহরে অভিযান শুরু করে তারা।

রাফাহ শহরে হামলা না চালাতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের আহ্বান উপেক্ষা করেই, সেখানে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা উপত্যকার অন্তত ১০ লাখ শরণার্থী সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও সোমবার রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চল থেকে লাখখানেক বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।