সোনাগাজীতে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ছোট ফেনী নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে বালুমহাল গড়ে তুলেছিলেন যুবলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ওরপে সেন্টু মিয়া। অবৈধ বালু মহাল বন্ধ করতে এলাকাবাসী বার বার অনুরোধ জানালেও অজ্ঞাত কারনে নিরব ছিল প্রশাসন।
এ নিয়ে গত শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘যুবলীগ নেতার অবৈধ বালুমহাল,মাসে আয় কোটি টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের তিন দিন পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পরও দুই দিন নিরব ছিল প্রশাসন। এ সুযোগে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা ড্রেজার মেশিন,পাইপ সরিয়ে ফেলে। অবশেষে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালুমহালে লাল পতাকা টাঙিয়ে উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করেছে।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ছোট ফেনী নদী থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে না পারে সেই জন্য বালুমহালে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে বালু জব্দ করেছি। এছাড়াও বালুমহালে থাকা এস্কেভেটরের ব্যাটারিও জব্দ করেছি। বেআইনি বালুমহাল গড়ার সাথে যারা জড়িতদের দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ছোট ফেনী নদীর সাহেবেরঘাট ব্রিজের উত্তরে প্রশাসন অনুমোদিত বালুমহালের বালু স্তুপ করে পানি প্রবাহের খাল দখল করেছে ইজরাদার। এ বালুমহালটিও যুবলীগ নেতা সেন্টুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতিপূর্বে খালে বালু স্তুপ করার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ইজারাদারের জরিমানা করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের পর ফের খাল দখল করে বালু স্তুপ করেছে ইজারাদার। পানি প্রবাহের খালটি দখলে থাকায় গতকাল রাতের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বালুমহালের পাশে সোনাগাজী সোনাপুর সড়কের কিছু অংশ খালে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও চরছান্দিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক সেন্টু সোনাগাজী উপজেলা যুবলীগের ৭১ নম্বর সদস্য। ছাত্রলীগ যুবলীগ রাজনীতিতে অতিতে অংশগ্রহণ না থাকলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা হাজী র হিম উল্যার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে ঠিকাদারীতে যুক্ত হয়। পরে উপজেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতার আস্থাভাজন হয়ে বালু মহাল ,ব্রিজের টোল ও ঠিাকাদারীতে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়।