আদালত অবমাননার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিশেষ পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম পলাশকে এক মাস আইন পেশা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৭ মে) বিচারপতি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন।
এজলাসে বিচারকাজ বাধাগ্রস্থ করা, বিচারককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন মন্তব্য ও অপপ্রচারের কারণে আদালত অবমাননার অভিযোগে পিপি জহিরুল ইসলামকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছিল। তিনি আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ জুন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা দেশ রূপান্তরকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি’র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
বিটিআরসি’র (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
গত ৩১ মার্চ খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম ন্যায়বিচারের আরজি জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চ তার আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় জহিরুল ইসলাম উচ্চস্বরে মামলা দ্রুত শুনানি করতে তাগিদ দেন এবং দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ করেন। অবশ্য পরে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বিচারক ন্যায়বিচারের স্বার্থে জহিরুল ইসলামের মামলাটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। তখন তিনি বিচারকের ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন নিয়ে কটূক্তি করে এজলাস ত্যাগ করেন। একপর্যায়ে ফেইসবুক লাইভে এসে জহিরুল ইসলাম ওই বিচারক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেন।
এ ঘটনায় ২৭ মার্চ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর ২৮ মার্চ তিনি বিচারকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ক্ষমা চাইলেও বিচারককে নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি জহিরুল ইসলাম তার জবাবে উল্লেখ করেননি। এরপর প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকের চিঠির বিষয়টি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে গত ৩ এপ্রিল জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলসহ তলব করে হাইকোর্ট।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাঈনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাকে (খুলনার পিপি) একমাস আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে বিরত থাকতে বলেছেন হাইকোর্ট। ওই দিন (১০ জুন) তাকে আবারও হাইকোর্টে হাজির হতে হবে।’
ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব বলেন, ‘ওই আইনজীবীকে পেশায় বিরত থাকার পাশাপাশি একটি নির্দেশনা ছিল যে, বিচারককে নিয়ে তার বক্তব্য অনলাইন থেকে সরাতে হবে। ইতোমধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’