বিভিন্ন দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবার বিশ্বব্যাপী নিজেদের সব করোনা টিকা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।
মূলত বিভিন্ন দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে এই বড় পদক্ষেপ নিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ‘করোনা মহামারির সময়কার বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন আর নেই। করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে যে টিকা বাজারে আনা হয়েছিল, সেই ভাইরাসটি এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। এমনকি মূল ভাইরাসটি থেকে যেসব ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাসের উদ্ভব হয়েছে সেগুলোও এখন আর প্রাণঘাতী নয়।‘
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাজারে বর্তমানে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বৈশ্বিকভাবে টিকার আর সেই চাহিদাও নেই। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির সব অংশীদারদের ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।‘
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ বলছে, কোভিশিল্ড ও ভ্যাক্সজেভরিয়া নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার টিকা সরবরাহ করেছে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তবে, এই টিকা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও মৃত্যুর অভিযোগ এসেছে অনেক। এই অভিযোগ মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে অনেক পরিবার।
অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছিল যে টিকা গ্রহণের পর টিটিএস বা থ্রম্বসিস উইথ থ্রম্বোসিটোপেনিয়া সিনড্রোম নামের এক প্রকার শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, তবে তা খুবই বিরল।
টিটিএস হলো এমন একটি শারীরিক জটিলতা, যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং প্ল্যাটিলেট কমে যায়। যুক্তরাজ্যে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়ে ২০২০ সালের টিকাদান কর্মসূচির শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আর তাই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে ভ্যাক্সজেভরিয়াসহ সব টিকা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে কোম্পানিটি।