ব্রাজিলে ২০১৬ সালের অলিম্পিক গেমসে ৮৫ কেজি লাইট-হেভিওয়েট বিভাগে চতুর্থ হয়েছিলেন ওলেকজান্ডার পিলিশেঙ্কো। ইউক্রেনের এই ক্রীড়াবিদ নিজের দেশকে রাশিয়া থেকে রক্ষা করতে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা করার আগে প্রাণ হারালেন তিনি। রবিবার তিনি নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এক বিবৃতির মাধ্যমে তার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের প্রথম দিন থেকে, ওলেকজান্ডার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। গতকাল আমরা তার মৃত্যুর দুঃখজনক সংবাদটি পেয়েছি।’
ইউক্রেনীয় ভারোত্তোলন ফেডারেশন ৩০ বছর বয়সী পিলিশেঙ্কোকেও শ্রদ্ধা জানিয়েছে, যিনি দুবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন। তিনি ২০১৮ সালে ড্রাগ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি।
সামরিক পোশাকে পিয়েলিশেঙ্কোর একটি ছবি পোস্ট করে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা আপনাদের জানাচ্ছি যে, আজ ইউক্রেনের স্পোর্টস মাস্টার, ভারোত্তোলনে দুইবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ওলেকজান্ডার পিয়েলিশেঙ্কো আর আমাদের মাঝে নেই। আমরা ওলেকজান্ডারের পরিবার এবং পরিচিত প্রত্যেকের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
আরেক ইউক্রেনীয় অলিম্পিয়ান ভ্লাদিস্লাভ হেরাস্কেভিচ জানিয়েছেন পেশাদার খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪৫০ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধে মারা গেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মানুষগুলোর উচিত ছিল আমাদের দেশে খেলাধুলার উন্নয়ন করা, জীবনযাপন করা, কিন্তু এখন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। একই সময়ে, যুদ্ধের সমর্থনকারী রাশিয়ান ক্রীড়াবিদরা এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় প্রতিযোগিতা করছে। আমি বুঝতে পারছি না এটা কিভাবে সম্ভব। এটা পাগলামি।’
পিয়েলিশেঙ্কোর মৃত্যু ইউক্রেনের বিরোধিতা সত্ত্বেও কিছু রাশিয়ানকে এই গ্রীষ্মের প্যারিস অলিম্পিকে ‘নিরপেক্ষ’ ক্রীড়াবিদ হিসাবে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও প্রশ্ন উত্থাপন করবে।
রাশিয়া ২০২১ সালে টোকিওতে ৩৩৫ জন অ্যাথলেট পাঠিয়েছিল - মোট ৭১টি পদকের মধ্যে ২০টি স্বর্ণ জিতেছিল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ডোপিং কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর ২০১৮ ও ২০২২ সালের শীতকালীন অলিম্পিকে জাতীয় প্রতীক ছাড়াই অংশ নিয়েছিল তারা।