আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার আসছে

শর্ত মানায় বাংলাদেশকে ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ। বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জানিয়ে গতকাল বুধবার সংস্থাটির ঢাকা সফররত মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

তৃতীয় কিস্তির পরিমাণ হবে ১১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে জুনে রিজার্ভে যোগ হতে পারে এ অর্থ।

মোট প্রতিশ্রুত ৪৭০ কোটি ডলারের মধ্যে এর আগে দুই কিস্তিতে প্রায় ১০৬ কোটি ডলার ছাড় করেছে আইএমএফ। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা বিশেষত বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে সরকার আইএমএফের ঋণ নিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) ও এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি থেকে ৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ২২ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে তারা একমত হয়েছেন।

আইএমএফের এ বিবৃতির আগে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বাজারভিত্তিক করা, টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে নতুন পদ্ধতি চালু করা এবং নীতি সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এসব বিষয় আইএমএফের শর্তের মধ্যে ছিল।

আইএমএফ মিশন গত ২৪ এপ্রিল ঢাকায় আসে। আজ পর্যন্ত তারা সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছে। মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর বিবৃতিতে বলা হয়, আইএমএফ টিম বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঋণের দ্বিতীয় পর্যালোচনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছে। কর্মকর্তা পর্যায়ের এ সমঝোতা আইএমএফের পর্ষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে।

গতকাল সচিবালয় ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঋণের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেছেন, আইএমএফ নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বাড়ানো, সুদহারের বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল থেকে টানা ১৫ দিন আইএমএফ প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে। তার সারমর্ম নিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল বৈঠক করে ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি। আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ প্রতিমন্ত্রীর কাছে ঋণের শর্ত ও সংস্কারের কতটা অগ্রগতি এবং আরও কতটা করতে হবে, সেই সুপারিশের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলার পরামর্শ অনুসরণ করে চলতি বছরেই কাজ শুরু করবে সরকার।

করের হার বা আওতা বাড়ানোর যে আলোচনা আছে, তাতে মানুষের কষ্ট বাড়বে কি? সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শর্ত পূরণ করতে গিয়ে মানুষের জন্য ভোগান্তি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না বাংলাদেশ।

আইএমএফের রিভিউ দলের সফর নিয়ে এদিন কথা বলেন অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারও। তিনি জানান, ১০টির মধ্যে বাংলাদেশ কেন একটি পূরণ করতে পারেনি তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে বাংলাদেশ পক্ষ।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি শুরুর পর দুই কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি পেয়েছে বাংলাদেশ। এবারের সফরে ঋণ পেতে বেঁধে দেওয়া শর্ত ও সংস্কার কতটা পূরণ হয়েছে সে বিষয়গুলোই খতিয়ে দেখেছেন আইএমএফের বিশেষজ্ঞ দলটি। মোটা দাগে বাজেটের আকার, রাজস্ব আয়, যৌক্তিক ভর্তুকি নির্ধারণ ও নিট রিজার্ভ নিয়ে নতুন করে লক্ষ্যমাত্রা ও সুপারিশ দিয়েছে এ পূর্বমূল্যায়ন দল।

আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের দেওয়া নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১১ কোটি মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আইএমএফ ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলারে নামিয়েছে। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা কমল ৫৩৬ কোটি ডলার। রিজার্ভ সংরক্ষণে ১৬ মাসে কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য। এরপরই আইএমএফ তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আইএমএফ গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানায়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের প্রথম কিস্তি ছাড় করা হয়। আর ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ছাড় করে সংস্থাটি।