প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচন

১৩৯ উপজেলায় ভোট পড়েছে ৩৬ শতাংশ

ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ১৩৯ উপজেলায় ভোট পড়েছে গড়ে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। এরমধ্যে ২১ উপজেলায় ইভিএমে ভোট হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৩১ দশমিক ৩১।  ব্যলটে ভোট হয়েছে ১১৫ উপজেলায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৩৭ দশমিক ২২ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। 

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু এলাকায় ধান কাটার মৌসুম চলছে সে কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আগেই আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অবহিত করেছিলেন। হাওর এলাকায় বা যেসব এলাকায় ধান কাটার মৌসুম চলছে সেখানে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আর বিশেষ করে ভোটের দিন হাওর এলাকায় বৃষ্টি আসায় সেখানকার লোকজন ভয় পেয়ে গেছে। বন্যা হলে ধানের ক্ষতি হতে পারে এরকম আশঙ্কার জায়গাও ছিল। এ ছাড়া অনেক এলাকায় ঝড় বৃষ্টি হয়েছে সেখানে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। 

এছাড়া একটি রাজনৈতিক দল তারা নির্বাচনে আসেনি। তাদের কিছু কিছু সমর্থক তারা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল। যেহতু রাজনৈতিকভাবে সমর্থন না পেলে অথবা রাজনৈতিকভাবে অংশগ্রহণ না করে তাহলে স্বাভাবিকভাবে তাদের সমর্থকরা ভোট দিতে আসেনি। তারা অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনে ভোটের মাঠে ভোটার কেন ধারাবাহিকভাবে কমছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের হার কেন কমছে এটা নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে না। ভোটের দিন কেন ভোট কম পড়েছে সেটা বলতে পারবো। কিন্তু ভোট দেওয়ার প্রবণতা কমছে এটা গবেষণার বিষয়। যারা রাজনীতি করেন, রাজনীতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা গবেষণা করে দেখতে পারেনে। প্রথম  যে উপজেলা নির্বাচন হয়েছে সে সময়ে  পাওয়ার এন্ড ফাংশন ছিল এক রকম। পরবর্তিতে এর পরিবর্তন হয়েছে। এগুলোর কারণেও হতে পারে। 

নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি ভোটারদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর রাজনীতিবিদরা দিবেন । আমি যেটা বলতে পারবো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন করা। নির্বাচন কমিশন যথা সময়ে নির্বাচনটা আয়োজন করতে পেরেছে কিনা, শন্তিপূর্ণ হয়েছে কিনা এবং যে সমস্থ ভোটারা ভোট কেন্দ্রে এসেছেন তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন কিনা? এই তিনটা জিনিস হল নির্বাচন কমিশনের কাজ।

ভোটার যদি না আসে তাহলে কার জন্য নির্বাচনের আয়োজন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। কে নির্বাচনে আসবে আসবে না এটা তাদের ব্যপার। আমাদের প্রত্যাশা সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। যদি কোন রাজনৈতিক দল মনে করে আমার জেতার সম্ভাবনা নেই, সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। নির্বাচনে আসলে জিততে পারবে না। সেটা তাদের বিষয়। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে।