হোসেলু ম্যাজিকে ফাইনালে রিয়াল

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আলফনসো ডেভিসের অসাধারণ গোলে বায়ার্ন মিউনিখ জাগায় জয়ের সম্ভাবনা। ৮১ মিনিটে বদলি নামেন হোসেলু। বায়ার্ন তখন রিয়ালকে কাঁদিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু হোসেলুর তিন মিনিটের ঝড়ে পাল্টে গেল সব। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করে রিয়ালকে জয় এনে দিয়ে রীতিমতো নায়কে পরিণত হন।

পিছিয়ে থাকার পর ২-১ গোলের জয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল কার্লো আনচেলত্তির দল। দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের জয় ৪-৩ গোলে। প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল।

আক্রমণাত্মক রিয়াল, কিছুটা রক্ষণাত্মক বায়ার্ন ম্যাচের শুরুর চিত্র ছিল এমনই। ১৩ মিনিটে হতাশায় পুড়তে হয় রিয়ালকে। ভিনিসিউস জুনিয়রের শট বায়ার্নের জার্মান গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লাগে। ফিরতি বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে শট নেন রদ্রিগো, এবার তা রুখে দেন নয়্যার। ৪০ মিনিটে ভিনিসিউসের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান নয়্যার। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় চিত্র। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৬৮ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন আলফনসো ডেভিস, রুডিগারকে কাটিয়ে জায়গা বানান। বাধা দিতে ছুটে আসেন কারভাহাল, দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোল করেন ডেভিস। ইউরোপ সেরা ক্লাব টুর্নামেন্টের মঞ্চে এটাই ডেভিসের প্রথম গোল।

৮৮ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক ভুল করেন নয়্যার। ভিনিসিউসের সোজাসুজি দুর্বল শট ঠেকাতে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি, ছুটে এসে আলগা বল জালে পাঠিয়ে সমতা আনেন হোসেলু। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই রুডিগারের ক্রস থেকে ফের গোল করেন মৌসুমের শুরুতে এস্পানিওল থেকে ধারে বার্নাব্যুতে পাড়ি জমানো হোসেলু। এবার বাঁ দিক থেকে রুডিগারের বক্সের মুখে বাড়ানো বল জালে পাঠান স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার।

স্পেনের হয়ে ফুটবল খেললেও হোসেলুর জন্মস্থান জার্মানির স্টুটগার্ট। হোসেলুর বাবা-মা স্পেনে আসার আগে চার বছর স্কুল জীবনও কাটিয়েছেন জার্মানিতে। এই মৌসুমে ধারে রিয়ালে খেলতে এসেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে হোসেলু বলেন, ‘এই রাত স্বপ্ন পূরণের। ফরোয়ার্ড হিসেবে আপনি এমনটি স্বপ্ন দেখবেন, চাইবেন গোল করতে। যা হয়ে গেল...আমার স্বপ্নও এত মধুর হয় না।’

যোগ করা সময় প্রথমে ৯ মিনিট দিলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ মিনিটে গিয়ে ঠেকে। কিন্তু বায়ার্ন পারেনি ঘুরে দাঁড়াতে। ১৩ মিনিটের সময় বায়ার্ন ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিখট বল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলে।

এটি নিয়ে মাঠেই প্রতিবাদ করেন বায়ার্ন কোচ টমাস টুখেল ও খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষে টুখেল ধুয়ে দেন রেফারি ও লাইনসম্যানকে। বায়ার্ন কোচ তৎক্ষণাৎ এক টিভি চ্যানেলে বলেন, ‘সর্বনাশ করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লাইনসম্যান ও রেফারি। এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি আমরা। দারুণ লড়াই হয়েছে, আমরা মাঠে সবটুকু দিয়েছি। কিন্তু এখন রিয়াল মাদ্রিদকে শুভকামনা জানাতে হচ্ছে।’

অফসাইডে গোল বাতিল হওয়া নিয়ে ডি লিখট বলেন, ‘‘লাইনসম্যান আমাকে বলেছেন ‘দুঃখিত, ভুল করেছি।’ আমার মনে হয় আমরা সবাই নিয়ম জানি। অফসাইড হয়েছে কি না, সেটা পরিষ্কার না হলে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। এটাই নিয়ম! আমার কাছে এটাকে অনেকটা লজ্জার মনে হয়েছে। হোসেলু গোল করার সময় প্রায় অফসাইড ছিল, কিন্তু তখন তারা খেলা চালিয়ে গেছে।’’ টুখেল, ডি লিখটের সঙ্গে অফসাইডে গোল পাওয়া না নিয়ে কথা বলেছেন টমাস মুলার, ‘এটা সত্যিই বিস্ময়কর, এমন একটা মুহূর্তে, এত দ্রুত বাঁশি বাজালেন।’ মুলারের মতে মাদ্রিদে প্রায়ই এমনটি হয়ে থাকে।

১৫তম শিরোপার লক্ষ্যে ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ১ জুন লন্ডনের ওয়েম্বলিতে হবে ফাইনাল।