ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কর্মীসভার বাইরে দুই সাংগঠনিক সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশে সমবায় মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কর্মীসভার শেষদিকে সমবায় মার্কেটের সামনে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসীন মোল্লার সমর্থকদের সাথে আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন আফ্রিদির অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি মারামারির শুরু হয়। লাঠি-সোটা, ছুরি-চাকু ও ব্যাট হাতে একদল কিশোর-যুবক এ সময় একে-অপরকে পেটাতে থাকে। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মারামারির একপর্যায়ে মাথা ফেটে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইডিয়াল একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খন্দকার নূর, একই এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীরব এবং আরেক মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাফ। এই তিনজনের পরিচয পাওয়া গেছে। তাদের সবাইকে তাৎক্ষণিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফুজ্জামান হিমেল বলেন, 'আহতদের মধ্যে খন্দকার নূরের মাথায় পাঁচটি এবং নীরবের মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে। সাদাফের সেলাই লাগেনি। তিনজনই এখন শঙ্কামুক্ত।'

যোগাযোগ করা হলে সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন মোল্লা বলেন, 'সামান্য বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। অথচ দক্ষিণ পৈরতলার ছেলেরা আমার অনুসারীদের পিটিয়ে আহত করেছে। আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন আফ্রিদির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দক্ষিণ পৈরতলায় বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমার কয়েকজন ছোট ভাই ঘটনাস্থলে ছিল। মূলত উত্তর পৈরতলার একদল ছেলের সঙ্গে কাজীপাড়ার ছেলেদের ঝামেলা হয়েছে।'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত সুমন চন্দ্র বণিক বলেন, ছাত্রলীগের সমাবেশস্থলের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হলে দুদিক থেকে পুলিশ এসে তাদের থামায়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করায়, কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।